
মা দুর্গা
কঙ্কণা সেন
মা দুর্গা ,দেবী দুর্গা
যা বলেই ডাকি না কেন
মা বলতেই দুর্গা পটে
আমার মায়ের ছবিটি যেন।
কখনো অপার সহিষ্ণুতা
কখনো অপার ক্ষমা
কখনো আবার প্রতিবাদে
মুখর আমার মা।
দীনজনে দরাজ দু‘হাত
উজাড় হত মা যে
সংসারের দশদিক
সামলাতো উদার ভাবে।
লালপাড় শাড়িতে
ঘামে ভেজা সিঁদুরে
হাতে শুধু শাঁখা পলা
তাতেই মা জমজমা।
তাই বলি ভাই ——
মা দুর্গা দেবী দুর্গা
যা বলেই ডাকি না কেন
মা বলতেই দুর্গা পটে
আমার মায়ের ছবিটি যেন।
***********************************
আস্ফালন
কঙ্কণা সেন
—————–
চায়ের কাপে তুফান ওঠে!
ভেক দরদে নেতা কাঁদে।।
জ্বলছে আগুন পুড়ছে মানুষ
কার তাতে কী?নেই কারো হুঁশ!
হাত পা সেঁকো খোসমেজাজে
ক্ষমতা তোমার পেশীর ভাঁজে।
মানুষ কাঁদে সাঁঝ সকালে
নারীর লজ্জা ঢাকো আঁচলে।
শাসক শাসায় রক্তচোখে
অস্ত্র শানায় দিন মানে।
আমরা তো সব পরান্নভোজী
দুটি ঠোঁটে আঙুল চেপে
ভাগ্যটার দোহাই মারি।
পুতুলনাচের ইতিকথায়
আলাদা করে নেইকো কথা
সুতোয় টান দিলেই তবে
হাত পা নেড়ে সং যে খেলি!
কতকাল আর চলবে এমন?
এবার বুঝি ধরল ভাঙন।
পুতুল নাচের কারিগর
সুতে ধরে দেবে টান
সেই টানেতে রাজামশাই
হবেই খানখান।
তখন বুঝি গাইব সুখে
আমাদেরই কবির গান
রাজা প্রজা সকলি সমান
রাজা দেবেন সম মান।।
———————————-
মহালয়া–২০২৫
কঙ্কণা সেন
ভোর হল রোজকার মতই
তবু এ যেন অন্য ভোর।
বীরেন ভদ্রের জলদ-গম্ভীর কণ্ঠস্বর যে
প্রতি বছর ফিরিয়ে দেয় সেই
শিউলি-শৈশব।
মায়ের বুকের ওম মেখে শুনেছি স্তোত্রপাঠ
শিখেছি দেবী পক্ষের উদ্বোধনী
পিতৃপুরুষের শুধুমাত্র নিবিড় আকাঙ্ক্ষা
উত্তরপুরুষের হাতে জলটুকু পাওয়া
পঞ্চভূতেই সৃষ্টি আর তাতেই লয়।
দরকার নেই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
সাবেকী ধারণার বিরোধে
আধুনিকতার কচকচি
যাঁদের রক্ত বয়ে চলেছি ধমনীতে
তাঁরা থাকুক এভাবেই বহমান
শ্রদ্ধা ভক্তি ভালোবাসা স্মরণ থাকুক অটুট।
*************************
![]()
কঙ্কনা সেন পরিচিতি
রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ। ছোট থেকেই কবিতার প্রতি ভালোবাসা। বিশ্বাস মানবতায়। পেশা-শিক্ষকতা।

নানান স্বাদের কবিতাগুলি ভারী মনোগ্ৰাহী❤️