
ভেজা চিঠি
তিতিলা মুখার্জি
আকাশ,
কোথায় তুমি ? আমার খাটের পাশে এই জানলা দিয়ে দেখছি অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে | এখন দুপুরবেলা কিন্তু আকাশ টা যে কি অন্ধকার কী বলবো l জানো এই মেঘ বৃষ্টি কেমন যেন একটা মন কেমন করা l মন খারাপ হলেই কে জানে কেন, শুধু তোমাকেই মনে পড়ে l তাই তোমাকে চিঠি লিখতে বসলাম l
তোমাকে দেখেছিলাম সেই কলেজে l প্রথম দিন থেকেই ছেলে মেয়ে সবার মাঝে তুমি ছিলে খুব পপুলার l হই হই করে ক্লাসটা মাতিয়ে রাখতে l আমিও দেখতাম তোমার কাণ্ড দূর থেকে l তোমার মনে আছে ,একদিন খুব বৃষ্টি, ক্লাসের পর আমরা কেউ বেরোতে পারছিলাম না ,নানা আড্ডার মধ্যে তুমি বললে,
– আমি না হাত দেখতে পারি l
অনেকেই তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো , দেখে দে, দেখে দে l অবশ্যই মেয়েরা l আমি একটু দূরে দাঁড়িয়েছিলাম l তুমি হঠাৎ আমার হাত টা টেনে নিয়ে বললে, আয় আগে তোর টা দেখি l কি বলেছিলে মনে নেই তবে টিপ টিপ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ি ফেরার সময় কেমন একটা ঘোরের মাঝে ছাতা খুলতেই ভুলে গেলাম l তারপর রোজ কলেজ পৌঁছেই তোমাকে খুঁজতাম l ক্লাস হতো, দল মিলে সিনেমা দেখা হতো কিন্তু সেই কথাটা আমি বলতে পারি নি। রোজ রাতে ঠাকুরকে বলতাম , কাল যেন , সেই কথাটা আকাশ আমাকে বলে l কিন্তু বললো না l তিন বছরের কলেজ শেষে আলাদা আলাদা জগতে মিশে গেলাম আমরা দুই বন্ধু l আর কোনোদিন দেখা হলো না l এখন আমার বন্ধু কে জানো? একটা সেরিব্রাল অ্যাটাক এর পর থেকেই এই খাট আর জানলা আমার বন্ধু l সঙ্গে কিছু বই আর তোমার স্মৃতি। প্রথম ভালো লাগা ভোলা যায় না ,তাই না?
আজ বাড়িতে কেউ নেই l আমি আর আমার সবসময়ের সঙ্গী আশা l ও ঘুমোচ্ছে আর আমি তোমার স্মৃতি নিয়ে আছি l
এই রে, বৃষ্টির ছাঁট এসে চিঠিটা ভিজিয়ে দিচ্ছে l ক ফোঁটা চোখের জল ও পড়লো চিঠির ওপর l লেখাগুলো অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে l ও যাকগে তুমি তো পড়বে না এই চিঠি l তুমি এখন কোথায় থাকো তাই- ই জানিনা l
ভাবছি সেই ছোটবেলার মতো একটা নৌকো বানাবো এটা দিয়ে l আমি তো পারবো না, আশা কে বলবো সামনের রাস্তায় জলে সেই নৌকো ভাসিয়ে দিতে l খুব হাসবে জানি, তবুও দেবো l আমার এই বৃষ্টি ভেজা চিঠি আমার মনের সব কথা নিয়ে ভেসে যাবে , যে দিকে ইচ্ছে l
ইতি তোমার –
দূর, তোমার কোথায় হলাম !
————————————-
![]()
তিতিলা মুখার্জী ~ কলকাতাতেই জন্ম ও বড় হওয়া । কর্ম জীবন থেকে স্বেচ্ছা অবসর নেওয়ার পর সাহিত্য,গান,কবিতা নিয়ে পথ চলা
