
স্নেহের সম্পর্ক
রেশমি দত্ত
সৈকত ও দময়ন্তী বেহালায় একটা বহুতল ফ্ল্যাটে থাকে।প্রায় পাঁচ বছর হলো ওদের বিয়ে হয়েছে।এবার ওরা দুজন থেকে তিনজন হবার প্ল্যানিং করছে।ওদের ফ্ল্যাটের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটে থাকে অভীক ও আত্রেয়ী,ওরা দুজনেই সৈকতের অফিস কলিগ,দুজনের বাড়ি আসানসোল।এক সঙ্গে পড়াশোনা করতো,পরে একসঙ্গে ক্যাম্পাসিং এ চাকরি পেল। স্কুল জীবন থেকেই ওদের গাঢ় প্রেম।খুব আন্ডার স্ট্যান্ডিং দুজনের | লিভ টুগেদার করে ওরা | দুজনেই সংসারী হতে চায়না | কিছু বললে বলে “সংসার,সন্তান ওদের কম্ম নয়“।শুধু ঘুরে বেড়ায় দুজনে,ট্রেকিং করে,যেন দুটো মুক্ত বিহঙ্গ। বছর খানেক হলো ওরা এই ফ্ল্যাটে এসেছে। হঠাৎ একদিন একটু রাতের দিকে খুব চিৎকার শোনা যাচ্ছিল ওদের ফ্ল্যাট থেকে। সৈকত–দময়ন্তী তখন প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে,হঠাৎ এতো চিৎকারে দময়ন্তীর ঘুম ভেঙে গেলো,সৈকতকে ডেকে তুলে দুজনেই গেল ওদের ফ্ল্যাটে ।দময়ন্তীকে দেখে আত্রেয়ী জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো।আত্রেয়ী বলছে” আমি মা হতে চাইনা দময়ন্তী,আমি এর দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত নই“।দময়ন্তী বললো,”মানে!আত্রেয়ী বললো যে সে মা হতে চলেছে এবং এর জন্য সে বার বার অভীককেই দায়ী করছিল। অভীক এদিকে বলছে,”যদি কিছু হয়ে থাকে তা এক্সিডেন্টালি হয়েছে,সে এইসবের জন্য দায়ী নয়,এবং কোনো দায়িত্ব নিতেও প্রস্তুত নয়।“ওরা ডক্টর কনসাল্ট করেছিল,ডক্টর বলেছে অলরেডি 12weeks passed,so abortion will be at high risk.
এদিকে দময়ন্তীর খুব মা হওয়ার শখ,অনেক চেষ্টাও করছিল,আগে পিছে কিছু না ভেবেই বলে দিল,”আমি নেব তোমাদের বাচ্চা,আমি ওর মা হবো,শুধু কটা দিন তুমি কষ্ট করো আত্রেয়ী”।
দময়ন্তীর কথা শুনে অবাক,বললো“কি বলছো দময়ন্তী!যা বলছো ভেবে বলছো তো?
দময়ন্তী তার সিদ্ধান্ত থেকে অনড়।
কথা হলো কোনো কাগজ পত্র,সই সাবুদের দরকার নেই,হসপিটালের রেকর্ড এ আত্রেয়ী মা হলেও,সে কোনো দিন তার সন্তান বলে দাবি করবেনা,নিঃশর্তে দিয়ে দেবে তার সন্তানকে।
এই ভাবে আরও মাস চারেক কাটলো,ঠিক পুজোর আগে 10 অক্টোবর চতুর্থীর দিন আত্রেয়ী এক কন্যা সন্তানের জন্ম দিলো।হসপিটাল এর বাইরে সারা রাত দাঁড়িয়ে ছিলো দময়ন্তী,সৈকত ও অভীক।ভোর হতেই মাইক এ অ্যানাউন্সমেন্ট হলো আত্রেয়ী মুখার্জীর বাড়ির লোক কে আছেন,সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গেলো ওরা,কিন্তু যে কোনো একজন যেতে পারবে ভেতরে,অভীক যেতে রাজি হলোনা,আর সৈকত দময়ন্তীকে যেতে বললো,অভীক জানিয়ে দিয়েছিল সে বাচ্চার মুখ দেখতে চায়না, শুধু নার্সের কাছে জেনে নিলো আত্রেয়ী কেমন আছে,ব্যাস ঐটুকু।এদিকে দময়ন্তী যে প্রতিটা দিন গুনেছে,প্রতিটা মুহূর্ত তার কাছে বছরের সমান লেগেছে,কত রাত মা হওয়ার আনন্দে ঘুমাতেই পারেনি,কবে তাকে কোলে নেবে এই কথাই ভেবেছে,তাই এই ক্ষণটা শুধু তার,সোজা ভেতরে ঢুকে গেলো সে,নার্স জিজ্ঞেস করলো,”আপনি কে হন?,মাসি?”দময়ন্তী শুধু হাসলো,তারপর কোলে নিলো সদ্যোজাতকে।কি যে সুন্দর হয়েছে সে,দময়ন্তীর যেন মন প্রাণ জুড়িয়ে যাচ্ছে,মা হওয়ার পর এমনটাই হয় বোধহয়,সে ভাবলো।ভুলেই গিয়েছিলো আত্রেয়ীর কথা,নার্সের কাছে তার মেয়েকে দিয়ে আত্রেয়ীর কাছে গেল সে,খুব আনন্দ হচ্ছে দময়ন্তীর,সে ভাবলো আত্রেয়ীর কি এতটাই আনন্দ হচ্ছে,ভয় পেল সে,আত্রেয়ী আবার মত বদলে ফেলবে নাতো,আবার বাচ্চার দাবি করে বসবে নাতো,এইসব ভেবে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে দময়ন্তীর,বুকের ভিতর ঢিপ ঢিপ করছে,মনে হচ্ছে মেয়েকে নিয়ে সে দৌড়ে কোথাও পালিয়ে যায়, মনকে শক্ত করে এটাও ভাবে,আত্রেয়ী চাইলেই সব হবে নাকি,কিছুতেই দেবেনা সে তার মেয়েকে,কিছুতেই না।কিন্তু দময়ন্তী দেখল আত্রেয়ী মুখ টা অন্যদিকে ঘুরিয়ে রেখেছে,নার্সটা বিড়বিড় করে বলছে,”এমন মা দেখিনি বাবা,বাচ্চাটাকে একবার কোলে নিলোনা,একবার দেখতেও চাইলো না“।দময়ন্তী আত্রেয়ীর কাছে এগিয়ে যেতেই আত্রেয়ী বললো “নার্সকে বলে দিয়ো বাচ্চাটিকে যেন ফর্মুলা মিল্ক দেওয়া হয়,আর ওর কাছে যেন বাচ্চাটিকে না দেওয়া হয়।ঠিক চার দিন বাদে ছুটি হয়ে গেলো মা,বাচ্চা দুজনের।অভীক সেদিনই আত্রেয়ী কে নিয়ে চলে যাবে আসানসোল,আর সৈকত ও দময়ন্তী দুজনেই ওদের বাচ্চাকে নিয়ে চলে যাবে ওদের নতুন ফ্ল্যাটে,কসবায়।ফ্ল্যাট টা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে দময়ন্তী।একটা ঘর পুরো বাচ্চার খেলনা,বেবি কট,দোলনা দিয়ে সাজানো,আর সেদিন তাকে প্রথম নিয়ে আসবে বলে ফুল দিয়ে,বেলুন দিয়ে সাজিয়েছে,খুব সুন্দর করে লেখা রয়েচ্ছে,” ওয়েলকাম সৈমন্তী“।এই নামটা দময়ন্তী ঠিক করেই রেখেছিলো।
এরপর সৈমন্তীকে নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করতে লাগলো দময়ন্তী।নতুন ফ্ল্যাটটা দময়ন্তী সৈকতকে নিতে বলেছিলো,যাতে চেনা জানা লোকের থেকে সৈমন্তীকে একটু আড়ালে রাখা যায়।এইখানে শুরু হলো সৈমন্তীকে নিয়ে ওদের নতুন সংসার।মাঝে মাঝে সৈকত দময়ন্তীকে বলতো,আরেকটা সন্তানের কথা,সে বলতো,”তোমার তো মা হওয়ায় কোনো অসুবিধা নেই দময়ন্তী,তাহলে কেন আমরা আরেকটা প্ল্যানিং করতে পারিনা ?কিন্তু দময়ন্তী চায়না,সে ভয় পায় যদি সে আর কারুর মা হলে সৈমন্তীকে কম ভালোবাসে,যদি সৈকত নিজের ঔরস জাত সন্তান কে পেয়ে সৈমন্তীকে অবহেলা করে,এসব সহ্য করতে পারবেনা দময়ন্তী।এভাবেই কেটেগেলো প্রায় ১৫ টা বছর।হঠাৎ একদিন ফেসবুক এ দেখতে পেল অভীক ও আত্রেয়ীর ছবি,আত্রেয়ী সিঁদুর পরা,সাথে অভীক ও একটা বছর পাঁচেকের ছেলে,যার মুখটা সৈমন্তীর মতন।বুকটা কেঁপে উঠলো দময়ন্তীর,পাগলের মতন ইনস্টাগ্রাম,ফেসবুক খুঁজতে লাগলো আরও ওদের সম্বন্ধে কিছু জানা যায় কিনা,দেখেতো মনে হচ্ছে বিদেশে থাকে,তড়িঘড়ি ব্লক করে দিলো দময়ন্তী।সে চায়না কোনো রকম সম্পর্ক থাক ওদের সঙ্গে।আত্রেয়ীর মাথায় সিঁদুর দেখে বোঝা গেলো,ওরা সামাজিক মতে বিয়ে করেছে | তাহলে,তবে এতো বছরে কোনো যোগাযোগ করেনি সৈকতের সাথে,দময়ন্তীও চায়না ওদের সাথে আর কোনোদিন দেখা হোক।অনেক বার সে নিজেকে প্রশ্ন করেছে, সে কেন ওদেরকে এড়িয়ে যেতে চায়?কেন ভয় করে ওদের কথা ভাবলে?ও তো কোনো অন্যায় করেনি তবে এমন হয় কেন?কেন সে পালিয়ে যেতে চায়?এই কেন’ র উত্তর ওর নিজের কাছেও নেই,এতো বছরে একটা দুঃস্বপ্ন ওর রাতে বারবার আসে, সৈমন্তীকে কারা ওর কাছ থেকে নিয়ে চলে যাচ্ছে।মাঝে মাঝে রাতে উঠে বসে,পাশে দেখে সৈমন্তি নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে,সৈকত অনেকবার জিজ্ঞেস করেছে,”কি হলো?”দময়ন্তী বলে,”সেই স্বপ্নটা আবার দেখলাম | “সৈকত সান্ত্বনা দিয়ে বলতো,”কেন এসব আজে বাজে ভাবো?”
আস্তে আস্তে সৈমন্তী বড়ো হচ্ছে,এবার ক্লাস টেন | অনেক বার দময়ন্তী ভেবেছে, সৈমন্তীকে সে এবার সব খুলে বলবে,সৈকত এর সঙ্গে আলোচনাও করেছে এই ব্যাপারে,ভেবেই আবার ভয়ে পিছিয়ে এসেছে,যদি সৈমন্তী অন্য ভাবে রিঅ্যাক্ট করে,যদি দময়ন্তীকে ছেড়ে তার আসল মা‘র কাছে চলে যেতে চায়,দময়ন্তী কি করবে তখন।পাগল হয়ে যাবে সে। বাঁচবেনা তারা দুজনেই।না–না এখন কিছু বলার দরকার নেই,এই ভেবেই দময়ন্তী বলতে পারছিলনা । ভাবলো ,আরেকটু বড়ো হোক সৈমন্তী,তারপর বলবে ওকে সবকিছু।
ক্লাস নাইন থেকেই সৈমন্তীর একটা স্টেডি রিলেশনশিপ ছিলো,বয়ফ্রেন্ড এর নাম অভ্র।খুব ভালো ছেলে অভ্র,ওর পরিবার ও খুব ভালো,বাবা– মা সবাই খুব ভালো। দুই পরিবারের মধ্যে খুব সুন্দর একটা সম্পর্ক তৈরী হলো,দুই বাড়ি থেকেই ওদের সম্পর্কটা মেনে নিয়েছিল।দুজনেই ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করলো,দুজনেই ক্যাম্পাসিং এ সিলেক্টেড হলো,চাকরি জয়েনও করলো একসঙ্গে IT সেক্টরে।
না–না আর দেরি করবেনা,এবার মনকে অনেক শক্ত করলো দময়ন্তী,বলেই ফেলবে সে এবার,কিন্ত কিভাবে শুরু করবে ভেবে পাচ্ছিলো না সে।
ফাল্গুন মাস চলছে,একটা কোকিল পড়ন্ত বেলায় ডেকেই চলেছে দময়ন্তীর ঘরের জানলার পাশে। কোকিল পাখি কেন ডাকে,কাকে ডাকে কে জানে?,দময়ন্তী ভাবে,কেন যে এই পাখিটা বাসা বাঁধেনা কে জানে? বড়ো স্বার্থপর লাগে এই পাখিটাকে দময়ন্তীর,মনে মনে ভাবে,”নিজের বাসা বাঁধার নাম নেই,কাকের বাসায় নিজের বাচ্চাকে মানুষ করে,আর বাচ্চা বড়ো হলে ডেকে নিয়ে চলে যায়“,একটুও ভালবাসেনা কোকিলের ডাক সে | কাকটা ফ্ল্যাট এর পাশের জামরুল গাছটায় বাসা বেঁধেছে আর কতবার অকারণে দময়ন্তীর মাথায় ঠুকরে দিয়েছে,ভেবেছে ওর বাচ্চার যদি কোনো ক্ষতি করে,দময়ন্তী দেখেছে কত কষ্ট করে তিলতিল করে কাকটি বাসা বানিয়েছে, যেখান থেকে পেরেছে কত কষ্ট করে ছানাদের খাবার জোগাড় করে এনেছে,আর এখন কোকিল এসে তার ছানাকে ডাকছে,প্রকতিতেও এতো নিষ্ঠুর ঘটনা ঘটে,খুব কষ্ট হচ্ছিলো দময়ন্তীর কাকটার কথা ভেবে,মনে মনে বলতে লাগলো,”বোকা কাক“। দময়ন্তী দেখলো মা কোকিলের সঙ্গে বাচ্চা কোকিলটা বাসা ছেড়ে উড়ে পালালো,অনেক বার তাড়িয়ে দিয়েছিল দময়ন্তী মা কোকিলটাকে,কিন্তু পারল না আটকাতে,ভাবলো সৈমন্তীকে সব সত্যি বলার পর ও যদি ওর আসল মা‘র কাছে চলে যেতে চায়, তাহলে যাবে,সে কাকের মতন বোকা হয়েই থেকে যাবে,তবু সে এবার বলবেই।
এইসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ করে সৈমন্তী এসে মা‘র গলা জড়িয়ে ধরে বললো,”কি এতো ভাবছো মা?অনেক ক্ষণ ধরে দেখছি ঐ জামরুল গাছ টার দিকে তাকিয়েই আছো | “
দময়ন্তী বললো,”দেখ,কাক টাকে দেখে বড়ো মায়া হচ্ছেরে,আজ ফিরে এসে দেখে ওর বাসাটা খালি,যে কোকিলের ছানা টাকে এতদিন মানুষ করছিলো,সেই ছানাটা আজ আসল মা‘কে চিনতে পেরে উড়ে পালালো বাসা ছেড়ে | সৈমন্তী হো হো করে হেসে উঠলো,বললো,”তুমিও না মা,কাকের বাসায় কোকিল ডিম পারে এতো সবাই জানে,এটা নিয়েও তুমি ভাববে!”দময়ন্তী বলে,”যদি মানুষের বেলা এমন হয়,যদি তুই তোর আসল মা‘র কাছে চলে যাস?” সৈমন্তী বললো,”মানে?আমার আসল মা কে?তুমিই তো আমার মা।“দময়ন্তী সব খুলে বললো মেয়েকে, সব শুনে সৈমন্তীর চোখ ছলছল করে উঠলো,তার পরক্ষণেই দময়ন্তীর গলা জড়িয়ে ধরে গাইতে লাগলো, “বড়ো আশা করে এসেছি গো কাছে ডেকে লও / ফিরায়েও না জননী … দময়ন্তী মেয়ের গলা জড়িয়ে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়লো,আর বলতে লাগলো ,”আমি বোকা নই,আমি বোকা নই“।
এদিকে অভ্র আর সৈমন্তী বিয়ে করবে,কিন্তু সৈমন্তী অভ্রকে সব খুলে বলতে চায়,সেই মতো অভ্রকে সব বললো,আর তার কথা শেষ হবার পর সৈমন্তী লক্ষ করল অভ্রর মুখটা কেমন ফ্যাকাসে হয়ে গেলো | মুখের হাসিটা কেমন ম্লান হয়ে গেলো,কিছুক্ষণ থেমে থেকে,অভ্র বললো,”তোর এগুলো আগে বলা উচিত ছিলো সৈমন্তী“। সৈমন্তী বললো ,”কেন ? আগে জানলে প্রেম করতিস না?”অভ্র সেদিন এক নিমেষে বদলে গেলো,কি রকম একটা ব্যবহার করে চলে গেলো।বাড়িতে ফিরল সৈমন্তী,মেয়ের মুখ কালো দেখে দময়ন্তী জিজ্ঞেস করল,”কি হয়েছে মা?” সৈমন্তী সব খুলে বললো।দময়ন্তী জানতো অভ্রকে ছাড়া সৈমন্তী বাঁচবেনা,সে বললো, সৈমন্তীর আসল বাবা –মাকে ডেকে পাঠাবে,সামনে দাঁড়িয়ে যেন তারা তাদের মেয়ের বিয়ে দেয়,দময়ন্তী তার মেয়ের সুখের জন্য এই কাজ করতে ভয় পাবেনা।দরকার হলে পায়ে ধরে নিয়ে আসবে তাদের,যে ভাবেই হোক খুঁজে বার করবেই তাদের। সৈমন্তী দৃঢ় গলায় বললো,”না মা তুমি কাউকে ডাকবে না,আমি কাউকে চিনিনা,চিনতে চাইও না,তোমরাই আমার বাবা –মা,এই পৃথিবীতে আমার আর কোনো পরিচয় নেই“।দময়ন্তী বললো,”কিন্তু অভ্র তো….”। সৈমন্তী বললো,”চাইনা অমন ভালবাসা যে আমার থেকে আমার পিতৃ পরিচয় নিয়ে ব্যস্ত।“দময়ন্তী খুব ভেঙে পড়েছিল, সৈমন্তী মায়ের মাথাটা বুকের ভেতর চেপে ধরে বললো,”অমন ভালবাসার জন্য আমি তোমাদের হারাতে পারবোনা,ভালবাসা গেলে ভালবাসা পাবো,কিন্তু তোমাদের হারালে আমি বাবা–মা পাবোনা,ঈশ্বর আমাকে প্রাণ দিয়েছে,তোমরা দিয়েছো জীবন, শতবার জন্ম নিলেও তোমাদেরকেই যেন বাবা–মা হিসাবে পাই ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করি | আমি কোকিল পাখির গানে মুগ্ধ হয়ে উড়ে যাবো না,আমি বোকা কাকের সঙ্গেই থেকে য়াব,প্রকৃতির নিয়মকে অমান্য করে“।গান গাইল সৈমন্তী,”দীন হীনে কেহ চাহেনা,তুমি তারে রাখিবে জানি গো“। সৈমন্তী বলল আর কান্না নয় মা,একটা সেলফি,বলেই মোবাইলটাকে এক হাতে ধরেছে আর পেছন থেকে সৈকত এসে মেয়ের পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল,বলল,”হয়ে যাক একটা সেলফি“।এরপর থেকে দময়ন্তী আর সেই দুঃস্বপ্ন টা দেখেনা,কোথায় হারিয়ে গেলো স্বপ্নটা কে জানে !!
———————————————-

লেখিকা-রেশমি দত্তঃ জন্ম ও পড়াশোনা কোলকাতায় ৷ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর-পেশায় শিক্ষিকা রেশমির অবসরের বিনোদন হলো বইপড়া ৷ শৈশব থেকে বাবার অনুপ্রেরণায় গল্প ও কবিতা লেখার শুরু ৷ শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং ভ্রমণ ওর প্রিয় বিষয় ৷
