
চতুর ভোম্বল – ভোলা
ভারতী ভট্টাচার্যী
“সদা সবুজ সার্কাস” এর মালিকের ঘরের বাইরে ভোলা কে দেখে অবাক হয়ে ভোম্বল জিজ্ঞেস করলো,এখানে তুই কি করছিস ! এদিকে আয় ! আমি তোকে কতক্ষণ ধরে গরু খোঁজা খুঁজেই যাচ্ছি ! কোথাও না পেয়ে চিন্তায় পড়ে গেছিলাম ! কি যে করিস না ভোলা! ভোলা অবাক হয়ে ভোম্বল এর দিকে তাকিয়ে বললো,তাই নাকি গো ! ইসস্ রাম আমি তো বুঝতে পারিনি | নাহলে তোমার কাছে চলে যেতাম | এখানে শুধু শুধু বেকার না বসে তোমার কাছে গিয়ে গল্প করতে পারতাম | দেখো না সুকুমার দা কখন থেকে আমায় ওর ঘরের সামনে বসিয়ে রেখে কোথায় চলে গেলো | বললো ওর ঘর টা পাহারা দিতে | ভোম্বল ভোলার কথা শুনে কোনো উত্তর না দিয়ে ওকে পেছনে রেখে কোমর টা বেঁকিয়ে খুব জোরে বায়ু নির্গত করলো ! এতে ভোলা খুব রাগ করে উঠে দাঁড়িয়ে বললো – এটা কি করলে তুমি ভোম্বল দা ! এইভাবে তুমি আমায় অপমান করলে? তুমি আমার সাথে এইরকম করতে পারলে ! ভোম্বল একদম স্বাভাবিক ভাবে বলল,কেন কি ভুল হলো ? বায়ু নির্গত হবার সময় এলে সে নির্গত হবে ই | কেউ আটকাতে পারবে না | আমার তো মনে হচ্ছে আমার বায়ু ও তোর থেকে বেশি বুদ্ধি রাখে | সময়ের কাজ যে যথা সময় করতে হয় সেটা বোঝে | তোর তো সেটুকু ও নেই! বেলা কত হয়েছে দেখেছিস ? খাওয়া নেই নাওয়া নেই,পাগলের মতো এখানে বসে আছিস ! আমি ছাড়া সবাই তোকে ব্যবহার করে | তুই কেন বুঝিস না ! দরজাটা তালা লাগিয়ে যেতে পারিস না মূর্খ ! তালা লাগিয়ে চাবিটা অফিসে জমা দিয়ে চল শিগগিরি! ভোলা এবার সব ভুলে জিভ কেটে মাথায় হাত দিয়ে বললো,এইটা তো আমার মাথায় আসেনি ভোম্বল দা | ঠিক আছে করছি তবে | ভোম্বল আর কি বলবে এই হাঁদা কে | হাসতে হাসতে ওকে বগল দাবা করে নিয়ে চললো |
কয়েকদিন ধরে সার্কাসের কোনো শো নেই | খুব গরমে ব্যবসা মন্দা চলে | তখন কর্মচারীরা কেউ বাড়িতে ঘুরে আসে | যাদের বাড়ি ঘর নেই ওরা নিজেরা নিজের মতো করে আনন্দ ফুর্তি করে | ভোলা-ভোম্বল ‘সদা সবুজ ‘ সার্কাসে জোকারের পাট করে | সেইরকম এক গরমের সন্ধ্যা বেলা সার্কাসের মালিকের জন্মদিন ছিল | ভোম্বল-ভোলা প্রথমে ওদের স্বভাবজাত একটু খেলা দেখিয়ে খেতে বসে গেলো | দুজন খেতে খুব ভালোবাসে | সে যেরকম খাবার ই হউক | ওদের পেটে গিয়ে সব হজম হয়ে যায় | পার্টিতে খাবারে সাথে পানীয় ও ছিল কিন্তু ভোম্বল-ভোলা কে কেউ একটুও পানীয় দিলো না | দুজনের খুব রাগ উঠলো | এখন ওদের অনেক বয়স হয়েছে তবু কেউ বড়ো বলে গণ্য করে না! ছোটদের সাথে খেতে দেয় ওদের ! এই অন্যায় আর মেনে নেওয়া যায় না | দুজন মাথা খাটিয়ে একবোতল পানীয় জোগাড় করে টেন্টের পেছনে বসে পুরো বোতল শেষ করলো | এবার দুজন দুজনের ঘাড়ে হাত রেখে হাটছে | হঠাৎ হাঁটা থামিয়ে ভোলা বললো ভোম্বল দা সামনে দেখো তো একটা পোলাও এর প্লেট ! তুমি কি দেখতে পাচ্ছ ? না তোমার নেশা চড়েছে ? ভোম্বল বললো মোটেও না ! তোর মনে হয় চড়েছে ! ভোলা ব্যাঘ্র ঝম্প দিয়ে বললো-আমার নেশা হলে কি করে এই পোলাও এর থালাটা দেখালাম! চলতো দেখি | দুজন কোনো রকম টলতে টলতে প্লেট টার কাছে এসে ধপ করে বসে ভোলা মাথা নামিয়ে বললো – ভোম্বল দা দেখো সবুজ রঙের প্লেটে কি সুন্দর পোলাও রেখেছে | এর পর গন্ধ শুঁকে বললো এর থেকে তো পোলাও এর গন্ধ বেরোচ্ছে না ! কেমন যেন মুলার গন্ধ আসছে ! আজ সকালে যে তরকারি রান্না হয়েছিল,সেই গন্ধ ! কিন্তু সকালের তরকারি তো সব শেষ হয়ে গেছিলো তবে এতদূরে টেন্টের পেছনে কোথা থেকে এলো ! একটু মুখে দিয়ে দেখবো? ভোম্বল বলল,দেখতে পারিস | ভোলা প্রস্তুত হচ্ছিলো পোলাও টা খেয়ে দেখার জন্য ! ঠিক তখনি ভোলা-ভোম্বল চিৎকার দিতে দিতে অন্য সাথীরা ওদের খুঁজে বের করে | ওদের দেখেই ব্যাপার কি হচ্ছে বুঝতে কারো বাকি রইলো না | দুজন ই বাহ্য জ্ঞান হারিয়েছে ! সময় নষ্ট না করে দুজন কে চেং দোলা করে কোনো রকমে ঘরে এনে বিছানায় ফেলা হলো ! ওরে বাপরে বাপ্ ! কত পাগল যে আছে দুনিয়ায় !
——————————————–

ভারতী ভট্টাচার্য পরিচিতিঃ ভারতী ভট্টাচার্য একজন ব্যবসায়ীক মহিলা এবং লেখক। বর্তমানে বাসস্থান অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম শহরে।
