Shadow

নশিপুর থেকে নিউ টাউন : পুজোর দিনগুলি – বিজিত কুমার রায়

PC: Pexels
নশিপুর থেকে নিউ টাউন : পুজোর দিনগুলি
বিজিত কুমার রায়

 বাল্যকাল — একান্নবর্তী পরিবার

আমার ছোটবেলার ৭ বছর কেটেছে গ্রামের বাড়িতে, নশিপুর, মুর্শিদাবাদে। আমাদের বাড়ি, যেটিকে দেওয়ান বাড়িও বলা হতো, সেখানে চণ্ডীমণ্ডপও ছিল। অত আগের কথা আবছা মনে আছে, আর পরে কলকাতায় থাকার সময় প্রতি বছর পুজোতে যাওয়া হতো।

বিশাল চণ্ডীমণ্ডপে একচালার বড় প্রতিমা হতো। ডাকের সাজ হতো। সমস্ত অস্ত্র বা আয়ুধ রুপোর ছিল। ৫-৭ দিন ধরে সারা বাড়ি গমগম করত অতিথি-অভ্যাগতদের নিয়ে। আমরা ছোটরা দারুণ মজা করতাম সব জ্যাঠতুতো, পিসতুতো ভাইরা মিলে।

যতটা মনে আছে, আমাদের কাজ ছিল আরতির সময় বড় চামর দু’দিকে দু’জন বাতাস করা, ফল-মিষ্টি, অষ্টমী-নবমীতে লুচি, ছোলা, মোহনভোগ পাতার দোনাতে ভরে যারা বাইরে থেকে আসতেন সবাইকে দেওয়া। এছাড়া সন্ধিপূজার আগে ১০৮ প্রদীপ দিয়ে মণ্ডপের সিঁড়ি সাজানো। বলির সময় আখ ধরা।

দু’বেলা ভোগ-প্রসাদ খাওয়া হতো বিরাট একটি বারান্দাতে সবাই লাইন দিয়ে বসে। বিসর্জনে বড় ঠেলা গাড়িতে প্রতিমা চড়িয়ে গ্রাম পরিক্রমা হতো। আর বিসর্জনের পর প্রচুর বাজি ফাটানো হতো ভাগীরথীর ধারে।

 শৈশবকাল — উত্তর কলকাতার পাড়া

একটু বড় হয়ে যখন কলকাতাতে চলে যাই, তখন প্রথম দিকে পুজোতে দেশে এলেও পরে পুজোটা বাগবাজার, কলকাতাতেই থাকতাম। প্রথম দিকে অর্থাৎ ক্লাস সেভেন অবধি পাড়ার পুজো এনজয় করতাম। বেশ কিছুদিন ধরে বাঁশের প্যান্ডেল বাঁধা হতো অনেকটাই রাস্তা জুড়ে। প্রায় তিন-চার তলা উঁচু। আমরা পাড়ার বাঁদরগুলো ওই বাঁশের প্যান্ডেল জুড়ে চোর-পুলিশ খেলতাম। কী জানি, পড়ে যাওয়ার চিন্তাও ছিল না, ভয়ও করত না। কাউকে পড়ে যেতে দেখিওনি। দারুণ এনজয় করতাম আর বড়দের বকা খেতাম।

পুজোর ক’দিন আমাদের কাজ ছিল বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা ভিড় সামলানোর স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করা। নিজেকে বেশ ইম্পর্ট্যান্ট মনে হতো। রোজ একটা নতুন সেট জামা-প্যান্ট পরতাম।

দশমীর পর হয়তো লক্ষ্মীপুজোর পর ওই প্যান্ডেলে হতো বিচিত্রানুষ্ঠান। আমাদের পাড়াতে ছিল দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়ের শ্বশুরবাড়ি। তাই ওঁর সুবাদে কলকাতার আর্টিস্ট সবাই আসতেন। দারুণ প্রোগ্রাম হতো।

 কিশোর বয়স — উত্তর কলকাতার বৃহৎ সর্বজনীন পুজো

ক্লাস এইটে পড়ার সময় আমাদের স্কুলের স্কাউটের এক দাদা আমাকে বাগবাজার সর্বজনীনের পুজোর স্বেচ্ছাসেবক দলে ঢুকিয়ে দেন। বছর তিন-চার চুটিয়ে সেই কাজ করেছি। এই পুজোর টান এখনও আমার আছে। প্রতি পুজোতে আমি কলকাতাতে থাকলে একদিন অন্তত বাগবাজার পুজোতে কাটাবোই। ভীষণ নস্টালজিক।

এই পুজোর অষ্টমীর দিনে বিরাষ্টমী পালন করা হতো। সামনের প্রাঙ্গণ জুড়ে ব্রতচারী নাচ, লাঠি খেলা ইত্যাদি হতো সকালবেলা। এক বছর সারা সকাল সেখানে ডিউটি দিয়ে জ্বর হয়ে যায়, যেটা পরে টাইফয়েডে দাঁড়ায়।

 তরুণ বয়স — অস্থির কাল

এরপর আমরা বাগবাজারের ভাড়াবাড়ি পরিবর্তন করে প্রথমে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ বেহালায় ভাড়াবাড়িতে কাটাই, কারণ বাবার অফিস কাছেই ছিল। তারপর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৭ ফার্ন রোড, বালিগঞ্জ চলে যাই। সেই সময় লোকাল পুজোর সাথে যোগ ছিল না। পাড়াতে কোনো যোগাযোগ ছিল না। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আবাসিক হওয়ার জন্য পাড়াতে খুব কম সময় কাটত। তবে পুজোর সময় কলেজের বন্ধুদের সাথে সারা কলকাতার সমস্ত বিখ্যাত পুজো দেখে বেড়াতাম।

একটি বছর, খুব সম্ভবত ২০০৪ সালে, আমরা বাড়ির সবাই ট্যুরিস্ট ডিপার্টমেন্টের সাথে বাসে করে সারা রাত ঠাকুর দেখে বেড়াই। তখন কিন্তু রাত্রিবেলা প্যান্ডেলে এত ভিড় হতো না। মনে আছে রাত দুটো-আড়াইটার সময় পার্ক সার্কাস পুজোতে মেলার স্টল থেকে গরম গরম রসগোল্লা খেয়েছিলাম।

 নব যুবক — বাড়ির মায়া কাটিয়ে

১৯৭৭ সালের জানুয়ারিতে প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের বাইরে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালসের তিরুচি, তামিলনাড়ুতে চাকরি নিয়ে চলে যাই। এর আগে কলকাতাতে কয়েকটি কোম্পানিতে কাজ করেছি।

তিরুচিতে কাটাই ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল। জয়েন করার তিন-চার দিনের মধ্যেই ওখানে সরস্বতী পুজোর অনুষ্ঠানে লেগে পড়ি কাজ করতে। তবে ওখানে সম্ভবত ১৯৮৫ সাল অবধি শুধু সরস্বতী পুজোই হতো। ওই বছর থেকে কয়েকজনের ঐকান্তিক চেষ্টায় দুর্গাপুজো শুরু হয়।

আমরা যতদিন ছিলাম দুর্গাপুজোর বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান ছিল না। মহালয়ার দিন ভোরে রেডিওতে মহিষাসুরমর্দিনী শোনা হতো দলবেঁধে। আসলে নবমী ছাড়া কোনো ছুটিও ছিল না ফ্যাক্টরিতে। নবমীতে ওখানে যন্ত্রপাতির পুজো হতো, নাম আয়ুধা পুজো। অনেকটাই আমাদের বিশ্বকর্মা পুজোর মতো। একটি বছর মাঝে রবিবার পড়াতে কিছু দূরে ডিফেন্সের আর্মস ফ্যাক্টরিতে যাওয়া হয়। ওখানে প্রচুর বাঙালি, তাই পুজো হতো।

কলকাতাতে ট্রান্সফার হয়ে এসে কাটে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৭। তখন খুবই ছোট বাচ্চারা। তাই পাড়ার পুজো আর আশপাশের পুজো দেখে কাটত। মনে আছে সল্ট লেকের সি বি ব্লকে থাকতে ওঁরা প্রতি পরিবার পিছু বিভিন্ন সাইজের (পরিবারের সাইজ দেখে) খিচুড়ির হাঁড়ি পুজোতে ভোগ দিতেন।

১৯৮৮-তে আবার ট্রান্সফার হয়ে চলে যাই দিল্লি অফিসে। থাকতাম যমুনার ওপারে নয়ডাতে আমাদের টাউনশিপে। এখানে থাকতে নয়ডা কালীবাড়িতে পুজো দেখতে যেতাম। খুবই সুন্দর আর ঘরোয়া পুজো হতো। ভালো বাংলা গানের জলসা হতো। ভোগ-প্রসাদ খাওয়াতো। পুজোর মধ্যে একদিন একটি গাড়ি ভাড়া করে সারাদিন চিত্তরঞ্জন পার্কের আর দিল্লির আরও কিছু বড় পুজো দেখতাম, ভোগ খেতাম। অবশ্যই কালীবাড়ি আর রামকৃষ্ণ মিশনে ঘুরে আসতাম। ১৯৮৮ থেকে ২০০৩ সাল অবধি এইভাবে পুজো কাটত। দিল্লির পুজোগুলির বৈশিষ্ট্য এই ছিল যে সর্বজনীন পুজো হলেও মনে হতো বেশ ঘরোয়া ভাবে পুজো হচ্ছে।

মধ্য যৌবনকাল

২০০৪ সালে আবার ট্রান্সফার হয়ে চলে যাই ভূপাল ইউনিটে। ওখানে পুজো হতো অনেকগুলি বাঙালিদের। তবে আমাদের টাউনশিপের কালীবাড়ির পুজো ছিল খুবই বিখ্যাত। বিশাল কালীবাড়ি আর দুর্গাপুজো হতো খুবই জাঁকজমক করে। প্রথম দিকে পুজোর ক’দিন রোজ কালীবাড়ি যাওয়া হতো আর দুপুরে ভোগ খেতাম। সন্ধ্যাবেলা বন্ধুদের দল গাড়ি নিয়ে বা ছোট বাস ভাড়া করে বেরোতাম সারা ভূপালের পুজো ঘুরতে। সেটা ছিল দারুণ সময়। মেয়েরাও একটু বড় হওয়াতে চুটিয়ে আনন্দ করতাম। আমাদের পাশাপাশি থাকা ছ’টি বাঙালি পরিবার একসাথে জমিয়ে আড্ডা, ঘোরা, বনভোজন ইত্যাদি হতো।

কয়েক বছর পরে, ২০০২ থেকে ২০০৫ আমি ভূপাল ভেল কালীবাড়ির প্রেসিডেন্ট হই। ওই সময় আবার অফিসেও পদোন্নতির চাপ ছিল। আমাকে কালীবাড়ির ব্যবস্থা সামলাতে রোজ ব্যস্ত থাকতে হতো। দুর্গাপুজো হতো আমাদেরই সহ-প্রতিষ্ঠান কালচারাল সমিতির উদ্যোগে ওই কালীবাড়ি প্রাঙ্গণে। প্রচণ্ড ভিড় হতো পুজো দেখতে। দিনে হাজার লোকের খিচুড়ি বা পোলাও ভোগ-প্রসাদ হতো। আমাদের মেম্বাররাই রান্না করতেন, মহিলারা ফল-তরকারি কাটতেন। সে এক হই-হই ব্যাপার। নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকত না। বড় করে ফাংশন হতো রোজ। আর কালীপুজো আমরা বড় করে করতাম, সারারাত অনুষ্ঠান চলত। আমাদের জীবনের একটা গোল্ডেন পিরিয়ড ছিল ওই সময়।

ভূপালে থাকতে একটি বছর আমরা পুজোর ক’দিন দিল্লিতে কাটাই, কারণ তখন ছোট মেয়ে নয়ডাতে এমবিএ করছিল। মনে আছে জি কে-তে একটি পরিচিত কোম্পানির গেস্ট হাউসে ছিলাম। রোজ দু’বেলা চিত্তরঞ্জন পার্কের পুজো দেখতে যেতাম। এছাড়া দিল্লির বড় পুজো বা কালীবাড়ি ও রামকৃষ্ণ মিশনে যাওয়াতো ছিলই।

শেষ যৌবন বা প্রৌঢ়কাল

২০০৬ সালে আমাদের আবার কলকাতা বদলি হয়। বলা ভালো, এটি হয় আমার চেষ্টাতেই। এই সময় আমার দুই মেয়ে চাকরি ও পড়াশুনার তাগিদে ভূপালের বাইরে চলে যায়। আমরা দু’জনেই কিছুটা শারীরিকভাবে অসুবিধায় পড়ি। এই সময় আমার বেলেঘাটাতে একটি ক্ষুদ্র ফ্ল্যাট ছিল ও কোম্পানির লোকেরা মিলে একটি বড় হাউসিং কমপ্লেক্স তৈরি শুরু করছিল নিউ টাউনে।

আমাদের বেলেঘাটার কমপ্লেক্সে সর্বজনীন পুজো হতো। প্রত্যেকদিন নানা রকম বিচিত্রানুষ্ঠান হতো। এছাড়া ভোগ-প্রসাদও রোজ হতো। আমরা সুবিধামতো কলকাতার ছোট-বড় পুজো দেখতে চলে যেতাম একটু ফাঁকার সময়।

২০০৮ সালে আমার বড় মেয়ের বিয়ে হয়। যদিও ওরা থাকত পুনেতে, কিন্তু জামাই নাগপুরের প্রবাসী বাঙালি বলে কোনোদিন কলকাতার পুজো দেখেনি। সেবার ওরা আমার গাড়ি নিয়ে সারা রাত বা খুব সকালে সব বড় বা নামকরা ঠাকুর দেখে বেড়ায়। জামাইয়ের ফটোগ্রাফির নেশা থাকায় কলকাতাতে প্যান্ডেলের মনোহারিত্বে একেবারে অবাক হয়ে যায়। ওরা খুব এনজয় করেছিল সেবারের পুজো।

এক বছর পুজোতে আমরা মালদা ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি। মালদায় আমাদের দেশের বাড়ি ছিল এক সময় আর আমার স্ত্রীর সারা স্কুল লাইফ কেটেছে ওখানে। ট্যুরিস্ট লজে থাকতাম আর পুজো কাটাতাম মহানন্দার তীরে রামকৃষ্ণ মিশনে। এছাড়া গৌড়-পাণ্ডুয়া ঘুরেছিলাম।

এভাবেই ধীরে ধীরে প্রৌঢ়ত্বে পৌঁছে যাই। ঘোরাঘুরি করা আর ঠাকুর দেখে বেড়ানোর উৎসাহ কমতে থাকে। একবার মনে আছে ট্যুরিস্ট ডিপার্টমেন্টের ব্যবস্থায় বনেদি বাড়ির পুজো দেখেছিলাম বিশেষ করে উত্তর কলকাতাতে আর ভোগ-প্রসাদ খেয়েছিলাম শোভাবাজার রাজবাড়িতে।

২০১০ সালে তখন ছোট মেয়ে বিয়ের পর নয়ডাতে থাকত। আমরা পুজোতে দিল্লি যাই ওদের সাথে কাটাতে। সেবার অবশ্য পুজো দেখতে বেশি ঘোরা হয়নি কারণ আমার অফিসের কাজ এসে গিয়েছিল দিল্লিতেই।

২০১২ সালে আবার দিল্লিতে ট্রান্সফার হই একটি তুলনামূলক সিনিয়র পোস্টে। তাই ২০১২ সালে পুজো উপভোগ করার সময় পাইনি। এমন অবস্থা ছিল যে নবমীর রাতে যখন নয়ডা কালীবাড়িতে আরতি দেখছি তখন কাস্টমারের উঁচু লেভেল থেকে ফোন আসতে থাকে যে একটি প্রজেক্টের কন্ট্রোল রুমে ফেলিওরের জন্য পুরো প্রজেক্ট বন্ধের অবস্থা। সেই রাতে ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে বিশেষ কাজ জানা কর্মী জোগাড় করে কাজটি সমাধান করতে আমার রাত শেষ হয়ে যায়।

২০১৩ সালে অবসরপ্রাপ্ত হই মার্চ মাসে। এপ্রিলের শেষে চলে আসি কলকাতাতে। তখন প্রচণ্ড ব্যস্ততা চলতে থাকে আমাদের নতুন তৈরি নিউ টাউনে ভেলের হাউসিংয়ে ফ্ল্যাটে যাওয়ার।

২০১৩ সালে অবশ্য পুজো কাটে বেলেঘাটাতেই পুরানো বাড়িতে আর ওই হাউজিংয়ের পুজোতে। আর কিছুটা সল্ট লেকের পুজো ঘুরে দেখা। পুজোর পরে আমরা নতুন বাড়িতে নিউ টাউনে চলে আসি।

 প্রৌঢ়ত্বের শেষ — বার্ধক্যের শুরু

সম্ভবত ২০১৫ সাল থেকে আমাদের নতুন কমপ্লেক্সে সরস্বতী পুজো শুরু হয়। দুর্গাপুজো শুরু হতে ২০১৭ সাল। ততদিন আমরা আমাদের ব্লকের পুজোতে যাতায়াত করতাম।

২০১৭ সালে কমপ্লেক্সে পুজো শুরু হবার পর একটা অন্য ভাবে পুজোর দিন কাটা শুরু হয়। সারা দিন পুজোর আনন্দ চলত। আমি অবশ্য পুজোর আয়োজকদের মধ্যে না থাকাতে বেশি ব্যস্ততা বা খাটনি থাকত না। তবে কিছু কিছু কাজ তো করতেই হতো।

এই সময় আমার ছোট মেয়ে সদ্যোজাত নাতনিকে নিয়ে আমাদের সাথে থাকতে শুরু করে, তাই আমাদের একটা ব্যস্ততা থাকত ওদের নিয়ে। আবার কিছুদিন পর থেকে মেয়ে যখন চাকরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে তখন ওই পুজোর কয়েকটা দিন একটানা ছুটি পেত। তাই আমরা ওই সময়ে বেরিয়ে পড়তাম ছোট বা বড় বেড়ানোর ট্রিপে।

একবার পুজোর ক’দিন পুরীতে ছিলাম। বাঙালি পুজো আর মিশনে গিয়ে পুজো দেখা হতো।

একবছর দার্জিলিঙে ছিলাম পুজোর ক’দিন। সেবার নেপালি রীতিতে পুজো দেখেছিলাম যাকে বোধহয় দাসাই বলে ওরা।

একবছর পুজোর সময় কর্ণাটক বেড়াতে যাই। নবমী-দশমী কাটে মহীশূরে। সে এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা। নবমীতে চামুণ্ডা মাতার মন্দির যাই আর দশমীর সন্ধ্যায় মহীশূর প্যালেসের অপূর্ব আলোকসজ্জা।

মাঝে একটি বছর অষ্টমীর দিন আমরা বেড়াতে যাই শ্রীরামপুরে। ওখানে পাড়ার পুজো ও রাজবাড়ির পুজো ঘুরে দেখি।

এই বছরের আগামী পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। এই বছরের পুজো কোথায় কাটবে এখনও ডিটেল ভাবে প্ল্যানিং হয়নি।

এইভাবেই বার্ধক্যের কাল চলবে যতদিন ডাক না পড়ে।
—————————————————————–

জন্ম স্কুল কলেজ সবই কলকাতা। কর্মক্ষেত্র অবশ্য সারা দেশ জুড়ে। ভেল কোম্পানীর তিরুচিরাপল্লী,কলকাতা,দিল্লী,ভূপাল ও ভারতবর্ষের সমস্ত প্রদেশের পাওয়ার প্ল্যান্ট।
রথ দেখা ও কলা বেচা হিসাবে দেশে ও বিদেশের বহু স্থানে একলা ও সস্ত্রীক ভ্রমণের সৌভাগ্য আছে। শখ পারলে সারাদিন বই ও বিভিন্ন পত্রিকা পড়া । এছাড়া বয়সের সাথে কিছুটা ধর্মের দিকে ঝোঁক। রামকৃষ্ণ মিশন থেকে দীক্ষাপ্রাপ্ত ও রামকৃষ্ণ সারদা বিবেকানন্দ দর্শনের দিকে উৎসাহ । আর এই বাবদে মিশনের নানা জনকল্যানকারী কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!