Shadow

নিরামিষাশী – সোনালী গুহ

PC Bangla live
নিরামিষাশী

সোনালী গুহ

   হইহই করে পঞ্চাশোর্ধ একদল তরুণী সেদিন দেখা করেছিল সাউথ সিটি মলে। ইদানীং সকলে মলে আড্ডা দিতে ভালবাসে।চারিদিকে বিভিন্ন বয়সীদের জম্পেশ আড্ডা,খাওয়া দাওয়া চলে। কেউ কারো দিকে বিশেষ নজর দেয় না। বেশ মুক্ত বাতাবরণে প্রাণখুলে গল্প করতে করতে খাওয়া দাওয়া করার এক উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এই মলগুলো।

    সেদিনের আড্ডার উপলক্ষ ছিল দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা বিনিময়। যে আটজন এসেছিল,তাদের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুক থেকে।সেখানে একটা গ্রুপের তারা সকলেই সদস্য। অনেকদিন পর তাদের এই  আড্ডা। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বল ছিল প্রত্যেকেই।

   কফি দিয়ে গল্পের শুরু। দাঁড়াও,আগে ওদের আট সখীর পরিচয় করাই তোমাদের সঙ্গে। ওরা তো ইদানীংকালের ফেসবুক পেজ এর বন্ধু। কিন্তু কারো কারো সঙ্গে বেশ গভীর সখ্য। কী যে ভালো লাগে,কেমন একদম অচেনা মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কত কিছু জানা যায়।একেকজন খুবই গুণী।পরিচিতির পরিধি বৃদ্ধি পায়।খুব ভালো লাগে।

      শ্রীময়ী ,বেশ মিষ্টি মিষ্টি  সুন্দরী নারী। ও খুব সুন্দর লেখে। আসলে শ্রীময়ী লেখিকা,বুলবুল রন্ধনে দ্রৌপদী সেটা নিয়েই ওর ফুড বুটিক। কী অসাধারণ কেক বানায়!!! নানান রকমের রান্নায় ও সিদ্ধহস্ত।শীতের পিঠে পুলির জন্য ওর শরণাপন্ন হতেই হয় বন্ধুদের।এছাড়াও বৈভিন্নময় কাবাব!! আহা ভাবতেই জিভে জল | রাজশ্রী নৃত্যশিল্পী।ছোট্টমেয়েটি কী দারুণ নাচে,

রূপার বুটিক আছে।খুবই করিৎকর্মা শিল্পপতি থুরি,শিল্প পত্নী!!!! কেমন কেমন শুনতে লাগছে তাই না!!,

ডরোথি !!!! সুদূর উত্তরবঙ্গ থেকে ব্যবসার জন্য ভূ ভারত ঘুরে বেড়ায়। রেলগাড়ির সঙ্গেই ওর হৃদ্যতা বেশি। কেবল ঘুরতে থাকে। সঙ্গে আসল গামারি কাঠের মূর্তি। এই ইউনিক কাঠের মূর্তিগুলি দেখলেই ভালো লাগে। আভিজাত্যের শেষ কথা।ঘর সাজাতে যাঁরা ভালোবাসেন,অবশ্যই ওর তৈরি মূর্তি কিনবেনই। অনুশীলা অসাধারণ একজন মজার মানুষ, নৃত্যগীতে,পটিয়সী। আসর জমিয়ে রাখে। খুব রসিকা। মধুমিতা সদ্য অবসরপ্রাপ্তা শিক্ষিকা,গানে জুড়ি মেলা ভার।শাড়ি আর গয়না কেনা ওর শখ।আলমারি বোঝাই শাড়ি। সঙ্গে ম্যাচিং কস্টিউম জুয়েলারি। মনটা খুব বড়।যেমন নিজে কেনে,তেমন বন্ধুদের উপহারও দেয়।সোমালি ওর স্কুলের বান্ধবী, সেও শিক্ষিকা। তবে ওদের মত গুণী নয় তেমন। স্বভাবে চুপচাপ।কিন্তু প্রচুর পরিচিতি।.. এই হল ওদের পরিচয়।

   সেদিন ওরা খুব গল্প করেছিল। গল্পের সব থেকে মজার মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল রাজ কচুরী খাবার সময়। আসর মাতিয়ে রাখে অনুশীলা। সেদিনের মেনু আমিষ বর্জিত। তাতে কারোরই খুব একটা অসুবিধা নেই। কিন্তু খেতে খেতে খুবই নরম গলায় অনুশীলা জানিয়েছিল ও নিরামিষাশী। সবাই অবাক হয়ে যায় শুনে।সোমালি বলে ,” তাই!! তুমি মাছ,মাংস কিছুই খাও না!!!”

অনুশীলা বলে ওঠে,” না না আমি চিকেন আর মাটন খাই”….. ব্যাস আর যাবে কোথায়!!! বন্ধুরা হইহই করে ওঠে।” মাটন,চিকেন খেয়ে নিরামিষ খাও!!!”….. বুলবুল খুব ইনোসেন্ট ভাবে জানতে চায়,”তুমি মাছ খাও না?”… “না,কেবল ইলিশ খাই!”… একটু ইতস্তত করে বলে অনুশীলা। এরপর সকলে বন্ধুকে চেপে ধরে। তখন পরম রসিকা অনুশীলা খুব ধীর কণ্ঠে জানায়,”ডিমটা খাই রোজ।শরীরটা তো রাখতে হবে।… বোঝো কাণ্ড!!! ইনি নাকি নিরামিষাশী!!!! আড্ডা জমে ওঠে যথারীতি।কিন্তু সেদিনের আড্ডার মধ্যে বারেবারে বিশুদ্ধ নিরামিষাশীকে নিয়ে মজা চরমে ওঠে। 

            একদিন ইলিশ,ডিম,চিকেন,মাটন সহযোগে নিরামিষ আড্ডার  প্রস্তাব সর্বসম্মতিতে হয় গৃহীত। প্রচুর ছবি তুলে, আবির  রাঙা বিকেলের আড্ডা শেষে বাড়ি ফিরেও বন্ধুরা ভুলতে পারে না নিরামিষাশীর গল্প।
———————————————

সোনালী গুহ পরিচিতিঃ
পেশায় শিক্ষিকামাতৃভাষায় কিছুটা মনের আনন্দে লেখালিখি করেন। অত্যন্ত অমায়িক,সবার সাথে মিলেমিশে,সবাইকে নিয়ে চলতে স্বস্তি অনুভব করেন। 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!