Shadow

এক বৃন্তে দুটি কুসুম – সুজয় দত্ত

PC Google play

এক বৃন্তে দুটি কুসুম 

সুজয় দত্ত

(১) নষ্ট 

শনিবার সকাল আটটা পনেরো। দোতলার গ্রিল না–দেওয়া খোলা বারান্দায় ব্রেকফাস্ট টেবিলে সকলের প্লেটে দুটো করে সবুজ সবুজ মেথির পরোটা। সঙ্গে অনেকটা কিমা, আচার আর চিলি সস। 

সকাল আটটা সাতচল্লিশ। টেবিলের খালি প্লেটগুলোয় শুধু কিমার হলুদ তেলের ছাপ আর আচারের লাল দাগ — শুধু একটি প্লেট ছাড়া।  সেখানে  একটা মেথির পরোটা তখনও না–ছোঁয়া। সবাই কি সাত–সকালে অত খেতে পারে?

সকাল নটা এগারো। রাস্তার উল্টোদিকের তিনটে বাড়ী পরে যে গোলাপী রঙের পাঁচতলা ফ্ল্যাটবাড়ীটা, তার চারতলার রান্নাঘরের জানলায় প্রবল তাড়া খেয়ে একটা কাক পড়িমরি করে উড়ে এসে বসল রাস্তার এদিককার বেঁটে নারকোলগাছটায়। সেখান থেকে কিন্তু সোজা দেখা যায় সেই গ্রিল না–দেওয়া দোতলার বারান্দা। 

সকাল নটা পনেরো। দুটো ব্যস্ত হাত ব্রেকফাস্ট টেবিলের এঁটোকাঁটা পরিষ্কার করছে। প্লেটগুলো সবই খালি, কারণ বেঁচে যাওয়া মেথির পরোটাটা ও–ই নারকোলগাছের মাথায়। সেখানে তখন উড়ে–এসে–জুড়ে–বসা আর স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে কাড়াকাড়ি ওটা নিয়ে।   

সকাল নটা আঠেরো। রাস্তার বেওয়ারিশ কুকুরদের এলাকাদখলের লড়াইয়ে হেরে গিয়ে খোঁড়াতে থাকা একটা কঙ্কালসার কুকুরের মাথায় ঝপ করে যেটা পড়ল নারকোলগাছ থেকে, সেটা পাওয়া আর হাতে চাঁদ পাওয়া একই ব্যাপার। একদিকটা একটু ঠোকরানো, ত্রিকোণাকার সেই বস্তুটিতে লেগে আছে মাংসের কিমার অপ্রতিরোধ্য সুগন্ধ। তিনদিনের উপোসী পেট লালা ঝরাচ্ছে উদ্দাম। 

সকাল নটা কুড়ি। অ্যাই অ্যাই অ্যাই — সামলে ! একটা অসতর্ক সাইকেলের চাকা পিছনের পা–দুটোর ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল আরেকটু হলে। একে সামনের বাঁ পা–টা খোঁড়া, তার ওপর — । নাঃ, এই রাস্তার ধারের নারকোলগাছতলায় বসে খাওয়াটা নিরাপদ নয়। সামনের ওই বাঁধানো চাতালটায় বরং — 

সকাল নটা বাইশ। মুদির দোকান ‘মনোরমা স্টোর্সের‘ মালিক তার বাঁধানো চাতালে রাস্তার একটা নোংরা কুকুর উঠতে দেখে লাঠি নিয়ে তেড়ে এল। পিঠে লাঠির ঘা পড়তেই মুখের জিনিস ফেলে রেখে খোঁড়া পায়েই চোঁ–চাঁ দৌড় সেখান থেকে। 

সকাল নটা সাতাশ। সেই চাতালের শেডের এককোণে একগাদা পুঁটলিপত্তর আর চট–টট  নিয়ে সংসার পেতে বসা পরিবারটির দুটো বাচ্চার চোখে পড়ে গেছে মুদির দোকানের সামনে গড়াগড়ি খাওয়া সবুজ রুটির মতো জিনিসটা। ত্রিকোণের আদ্ধেকটাই এখন আর নেই। সে যাই হোক — খিদের তো আর জ্যামিতি হয় না, তাই তাদের মধ্যে একজন দৌড়ে গিয়ে নিয়ে এসেছে ওটা। 

সকাল নটা একত্রিশ। ঝাল–মিষ্টি লাল সস লাগানো সেই সবুজ অর্ধত্রিকোণ তখন উধাও। পুঁচকে দাদাটি ঠোঁট চাটছে। সমান ভাগ না পেয়ে ছোট ভাইটা তার বিরুদ্ধে তারস্বরে নালিশ জানাচ্ছে। 

এইভাবেই শেষমেষ নষ্ট হল একটা বাড়তি মেথির পরোটা। সময় লাগল ঠিক এক ঘন্টা ষোলো মিনিট। দারিদ্র আর শিশু–অপুষ্টি নিয়ে একটা লেকচার বা সেমিনারের জন্য যথেষ্ট সময় সেটা — তাই নয় কি?    

(২) ফুলমালা

“হেই, আঃ আঃ আঃ আঃ আঃ”

যাদের উদ্দেশে ডাক তারা জানে এ-ডাকের মানে। এটা ওদের প্রাত্যহিক রুটিন। কানে যেতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটতে ছুটতে আসে, জড়ো হয় খুপরি চায়ের দোকানটার পাশে রাধাচূড়া গাছটার তলায়। সেখানে নরম কাদামাটির ওপর ইট পেতে বানানো নীচুমতো বেদীটায় যে বসে আছে তার পসরা সাজিয়ে, সে এপাড়ার পরিচিত মুখ। প্রতি বৃহস্পতিবার সকালে তার এই গাছতলার দোকানে লাইন পড়ে ক্রেতার। গুরুবার তো, পুজোআচ্চার দিন। সপ্তাহের অন্য দিনগুলোয় সে আসে, বসে, চলে যায়, দু-চারজন বাঁধা খদ্দের ছাড়া আর তেমন কেউ ফিরেও তাকায় না। শুধু ওই ডাক শুনে ভিড় জমায় একদল চারপেয়ে। এ-পাড়ার যত নেড়িকুত্তা আর তাদের পরিবার-পরিজন। ওদের প্রত্যেকের বরাদ্দ আধখানা করে লেড়ো বিস্কুট। পাশের চায়ের দোকানের বুড়িটাও জানে ঠিক কখন এক ভাঁড় চা আর এক ঠোঙা লেড়ো বিস্কুট পাঠিয়ে দিতে হবে গাছতলায় তার বাচ্চা শাগরেদটার হাত দিয়ে। আর তারপর সে এক দৃশ্য। বাজারে আর বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার সেই সরু পিচবাঁধানো রাস্তা পরবর্তী কয়েক মিনিট পুরোপুরি সারমেয়দের দখলে। তারা লাফিয়ে ঝাঁপিয়ে একে অপরকে ঠেলে সরিয়ে চীৎকার-চেঁচামেচি করে বিস্কুট খাবে, আর পথচারীরা ত্রস্ত হয়ে পাশে সরে যাবে। সাইকেল রিকশা আর মোটরবাইক গতি কমিয়ে পিচরাস্তা থেকে পাশের কাদামাটিতে নেমে ওই জায়গাটুকু পেরোবে। হঠাৎ করে কোনো ট্যাক্সি বা গাড়ি এসে পড়লে মুহূর্তের জন্য সারমেয়-বাহিনী ছত্রভঙ্গ, তারপর আবার বিস্কুট-উৎসব। এই উৎসবের মধ্যমণি তার ইটের বেদীতে বসে বিস্কুট ভেঙে ভেঙে কখনো এদিকে ছুঁড়ে কখনো ওদিকে ছুঁড়ে বন্টনসাম্য আর গণতন্ত্র বজায় রাখার চেষ্টা করবে। নাহলে মদ্দা কুকুরগুলো গায়ের জোরে সব খেয়ে নেয়, মাদী আর বাচ্চাকাচ্চাগুলো পায়না কিছুই। 

মুখ চেনে সবাই, কিন্তু নাম বোধহয় জানেনা কেউ। ফুল বেচে, তাই সবার কাছে ওর নাম হয়ে গেছে ‘ফুলমালা‘। যখন দোকানে খদ্দের থাকেনা, বসে বসে কাঠিছুঁচ দিয়ে বেলফুল–রজনীগন্ধার মালা গাঁথে। দাম অনুযায়ী মালার ছোটবড় আছে, দুটাকা থেকে দশটাকা অবধি। আটটাকা আর দশটাকারটায় আবার স্পেশ্যাল ব্যাপার — মালার ঠিক মাঝখানে লালফুলের একটা থোকা। সাদার মধ্যে লাল দারুণ লাগে। বাজারের ঠিক আগেই যে ছোট্ট কালীমন্দিরটা, রোজ সকালসন্ধ্যে পুজো হয়, তার জন্য রোজ একটা বড় জবাফুলের মালা বাঁধা। আর রাস্তার ঠিক উল্টোদিকেই মার্বেলরঙের বিরাট তিনতলা বাড়িটা শ্রীবাস্তবদের। ব্যবসায়ী মানুষ, কিন্তু ঠাকুরদেবতায় খুব ভক্তি, রোজ পুজো হয় গৃহদেবতার। বেলা সাড়ে আটটা–নটা নাগাদ ওদের দারোয়ান এসে একটা মোটা গোড়ের মালা নিয়ে যায় স্পেশ্যাল দাম দিয়ে। বিষ্যুৎবারের জন্য অবশ্য এই স্পেশ্যাল মালাদুটো আগে থেকেই বানিয়ে আনে ফুলমালা, কারণ সকাল সাতটা থেকে দশটা অবধি খদ্দেরের ভীড়ে নিঃশ্বাস ফেলার সময় থাকেনা। দম  দেওয়া পুতুলের মতো দুটো করে বড় শালপাতা সামনে বিছিয়ে ধরবে, তাতে আমপাতা–বেলপাতা–দুব্বো ছিঁড়ে ছিঁড়ে রাখবে, একটা দুটাকা বা চারটাকার মালা আর একটা কাঁঠালী কলা দেবে তার মধ্যে, সঙ্গে একটা লাল টকটকে জবা আর একগোছা কুচো ফুল। শালপাতা মুড়ে সুতো দিয়ে বেঁধে প্যাকেট করবে, খদ্দেরের হাতে দিয়ে টাকা নেবে, আবার পরের শালপাতাদুটো বিছোবে। চলতেই থাকবে এরকম। সেদিন তাই বিস্কুট–উৎসবের বিরতি।

পাড়ার প্রায় কারুরই ধারণা নেই কোত্থেকে আসে রোজ ফুলমালা। কেউ বলে ভোরের ট্রেনে আসে, কেউ বলে ওকে বাসস্ট্যান্ডে বাস থেকে নামতে দেখেছে। পাশের চায়ের দোকানের বুড়িটা নিশ্চয়ই জানে ওর সব ভেতরের খবর, কারণ ফাঁকা দোকানে সারা সকাল বসে বসে ওর সঙ্গেই তো সে বকবক করে। এ-পাড়ায় বিভিন্ন বাড়িতে যারা ঠিকে কাজ করে তাদের কেউ কেউ ওই বুড়ির কাছ থেকে শুনে এসে টুকরো টুকরো নানা কথা বলে ওর সম্বন্ধে। বলে ওর আসল বাড়ি নাকি ছিল ভুতুড়িয়া গ্রামে। ডায়মন্ডহারবার লাইনের মজিলপুর স্টেশনে নেমে যেতে হয়। এক ছেলে ছাড়া তিনকুলে আর কেউ নেই। সেই ছেলে আর ছেলের বৌই নাকি ওকে ভিটেছাড়া করেছে। তারপর কিছুদিন নরেন্দ্রপুরের এক বস্তিতে এসে উঠেছিল, সেই বস্তি উচ্ছেদ হওয়ার পর এখন কোথায় থাকে সেটা চা-বুড়িও জানেনা।

এহেন ফুলমালাকে নিয়ে পাড়ার কর্মব্যস্ত, উদাসীন বাসিন্দাদের প্রথম টনক নড়ল যখন ও একবার পরপর দশদিন এল না। আগে কক্ষনো এরকম হয়নি। সেই দশদিনের মধ্যে আবার দুটো বিষ্যুৎবার ছিল, তাই আরও হয়রানি খদ্দেরদের। ফুলের অন্য দোকান বলতে সেই রেলস্টেশন-লাগোয়া বাজারের দোকানগুলো, সেখানে যেতে গেলে সাইকেলরিক্সা নিতে হয়। এরপর যখন ও ফিরল, খদ্দেরদের মুখে একটাই প্রশ্ন — কী হয়েছিল কী এতদিন? ও কোনো উত্তর না দিয়ে নীরবে ফুলের প্যাকেট বেঁধে যেত। আর ওর লেড়ো বিস্কুটের ‘খদ্দের’রা তো প্রশ্নটশ্ন করেনা, তারা ওকে আবার দেখতে পেয়ে তাদের প্রাণের আহ্লাদ বোঝাতে ওকে চেটে-টেটে গায়ের ওপর উঠে অস্থির। কিন্তু ক্রমে সকলেই বুঝল যে ওই দশ দিনে কিছু একটা  বদল ঘটেছে।  আজকাল ফুলমালা মাঝেমাঝেই দুতিন দিন করে আসেনা। জিজ্ঞেস করলে হয় কিছুই বলেনা নয়তো কোনো ঠুনকো অজুহাত দেখায়। এরকম অনিয়মিত হলে তো খদ্দেরদের চলবে না, তাদের অনেকে আস্তে আস্তে অন্য ব্যবস্থা দেখতে শুরু করল। কেউ আগের দিন অফিসফেরত শিয়ালদা বা ফুলবাগান বাজার থেকে ফুল নিয়ে আসে, কেউ বা খবরের কাগজঅলার সঙ্গে মাসকাবারি বন্দোবস্ত করে নেয় বিষ্যুৎবার-বিষ্যুৎবার সকালবেলা কাগজের সঙ্গে ফুলের প্যাকেটটাও দিয়ে যাবে বাড়িতে। দেখতে দেখতে বিক্রিবাটা কমে এল ফুলমালার, বিষ্যুৎবারেও দোকান ফাঁকাফাঁকা। তার কাজের গতিও কেমন যেন শ্লথ হয়ে গেছে — আগের ক্ষিপ্রতায় মালা গাঁথতে বা প্যাকেট বাঁধতে পারেনা আর। বেলা বারোটায় দোকান গুটিয়ে চলে যাওয়ার অভ্যেস ছিল ওর, এখন মাঝেমাঝেই চা–বুড়ির উনুনে রোজ যে ভাতে ভাত চড়ে তার থেকে একটু মুখে দিয়ে গাছতলায় শুয়ে ঘুমোয় অনেকক্ষণ। 

ভাদ্র গড়িয়ে আশ্বিন এল। চারদিকে হৈহৈ করে উৎসবের প্রস্তুতি। কেনাকাটা, প্ল্যানপ্রোগ্রাম, ব্যস্ততা। এসবের মধ্যে কেউই প্রায় খেয়াল করেনি যে ফুলমালা সপ্তাহে হাতে–গোনা যেকদিন আসে, সারাক্ষণ যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখ নিয়ে বসে থাকে তার ফাঁকা দোকানে। কেমন একটা অবসন্ন শরীর নিয়ে লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটে। আর সবচেয়ে বড় কথা, তার সেই বিস্কুট উৎসব বন্ধ হয়ে গেছে। এখন ফুলমালাকে আসতে দেখলে চা–বুড়ি নিজেই লেড়ো বিস্কুটগুলোকে টুকরো টুকরো করে সামনের ঘাসজমিটায় ঢেলে দেয়। কিছু কুকুর এখনো আসে সেগুলো খেতে, কিন্তু একটা বড় অংশ যায় কাকপক্ষীর পেটে। মহালয়ার আগের দিন ছিল বিষ্যুৎবার। ফুলমালা ইটের বেদীতে তার পসরা সাজিয়ে বসে গাছের গুঁড়িতে এলিয়ে দিয়েছিল শরীরটা। ইদানীং সে বেশী ফুলটুল আনেনা, কিন্তু আজ এনেছে। দেবীপক্ষের শুরু তো, অন্যবছর এইসময় বিক্রি একটু বেশীই হয়। দুপুরে গাছতলাতেই শুয়ে রইল। কিসের চাপা অস্বস্তিতে বারবার এপাশওপাশ করছিল, কে জানে। চা-বুড়িও এইসময় খেয়েদেয়ে দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করে চলে যায়, সন্ধ্যের মুখে ফেরে। সন্ধ্যেয় ফিরে সে যখন দেখল ফুলমালা গাছতলায় অঘোরে ঘুমিয়ে, আর বিরক্ত করেনি। রাত বাড়ল, জ্বলে উঠল রাস্তার সব আলো, কিন্তু গাছতলার ঐখানটায় আলো পৌঁছয় না — ল্যাম্পপোস্টগুলো দূরে। অনেক রাতে সারাদিনের হিসেবটিসেব শেষ করে উনুন নিভিয়ে চা–বুড়ি যখন বাড়ি যাচ্ছে, ওদিকে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই। খানিকটা নিশ্চিন্ত হল সে। 

ভোরের কলকাতা আড়মোড়া ভেঙে জাগল বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের “ইয়া দেবী সর্বভূতেষু” শুনতে শুনতে। কিংবা হয়তো শুয়েশুয়েই শুনল আধোঘুমে। এপাড়ায় প্রথম বিছানা ছাড়লেন রায়বাবু। এমনিতেই তিনি রোজ ভোরে উঠে মর্নিংওয়াকে যান, কিন্তু কাল সারারাত এতো কুকুর ডাকছিল, ভাল ঘুম হয়নি। কী যে হয় মাঝেমাঝে নেড়িকুত্তাগুলোর? পাঞ্জাবীটা গায়ে চাপিয়ে বাড়ীর বাগানের গেট দিয়ে বেরোতেই তাঁর নজরে পড়ল এক অদ্ভুত দৃশ্য। তাঁর বাড়ীর পাঁচিল থেকে খানিকটা দূরে সেই রাধাচূড়া গাছের ঠিক পাশেই যে ঢালুজমি নেমে গেছে রেললাইনের দিকে, সেখানটায় ওদিকে তাকিয়ে বসে আছে একগাদা কুকুর। ঝগড়া নয়, নিজেদের মধ্যে মৃদুস্বরে ঘেউঘেউ করছে তারা। তিনি আমল না দিয়ে উল্টোদিকে নিজের মর্নিংওয়াকের রাস্তায় চলে গেলেন। 

চা–বুড়ির চেঁচামেচিতে পাড়ার বাসিন্দারা বাইরে বেরিয়ে পুলিশ ডাকিয়ে সেই রেললাইনের ঢালুজমির নীচের নালাটা থেকে ফুলমালার মৃতদেহ তুলে আনতে আনতে সূর্য প্রায় মাথার ওপর উঠে গিয়েছিল। পুলিশ দেহটা নিয়ে চলে যাওয়ার আগে চা–বুড়ি চোখের জলে ভেসে তাড়াতাড়ি তার ওপর ছড়িয়ে দিয়েছিল কালকে ফুলমালারই আনা বাসি ফুলগুলো। আর পাড়াশুদ্ধ সবাই অবাক হয়ে দেখেছিল, অপসৃয়মান পুলিশের গাড়িটার পিছু পিছু ধাওয়া করে যাচ্ছে পাড়ার যত নেড়িকুত্তার দল।
———————————————-

সুজয় দত্ত বর্তমানে আমেরিকার ওহায়ো রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যানতত্ত্বের (statistics) অধ্যাপক। তিনি কলকাতার বরানগরের ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিকাল ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ছাত্র। তরুণ বয়স থেকেই সাহিত্য তাঁর সৃজনশীলতার মূল প্রকাশমাধ্যম,সাহিত্য তাঁর মনের আরাম। ছোটগল্প, বড় গল্প, প্রবন্ধ ও রম্যরচনার পাশাপাশি নিয়মিত কবিতাও লেখেন তিনি। এছাড়া করেছেন বহু অনুবাদ–হিন্দি থেকে বাংলায় এবং বাংলা থেকে ইংরেজিতে। তিনি হিউস্টনের “প্রবাস বন্ধু” ও সিনসিনাটির “দুকুল” পত্রিকার সম্পাদনা ও সহসম্পাদনার কাজও করেছেন। এই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত ‘বাতায়ন’ পত্রিকাটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। এই পত্রিকাগুলি ছাড়াও ‘অপার বাংলা’ ও ‘গল্পপাঠ’ নামক ওয়েব ম্যাগাজিন দুটিতে,নিউজার্সির ‘আনন্দলিপি’ ও ‘অভিব্যক্তি’ পত্রিকা দুটিতে,কানাডা থেকে প্রকাশিত ‘ধাবমান’ পত্রিকায়,ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত পূজাসংকলন ‘মা তোর মুখের বাণী’ তে,ভারতের মুম্বাই থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতা পরবাসে’ রয়েছে তাঁর লেখা। কলকাতার প্রসিদ্ধ সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজসেবী সংস্থা ‘পোয়েট্স ফাউন্ডেশন’-এর তিনি অন্যতম সদস্য। সম্প্রতি নিউ জার্সির “আনন্দ মন্দির” তাঁকে “গায়ত্রী  গামার্স স্মৃতি সাহিত্য পুরস্কারে” সম্মানিত করেছে। সাহিত্যরচনা ছাড়া অন্যান্য নেশা বই পড়া, দেশবিদেশের যন্ত্রসঙ্গীত শোনা এবং কয়েকটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!