
শিরোনাম “মানব”
কলমে :: মেঘদূত
আমরা মানব –
জীব জগতের শ্রেষ্ঠত্ব আমরা নিজেরাই দাবী করি।
বন্য আদিম যুগ থেকে
আজকের তথাকথিত সভ্য মানব বলতে বলতে
বিস্তর পথ পাড়ি দিয়েছি আমরা,
গড়েছি ভেঙেছি কত ইতিহাস!
আমরা সত্যিই কি আদিম প্রবৃত্তিগুলো
বনেই ফেলে এসেছি?
না কেবল তাকে আধুনিকতার মোড়কে
আচ্ছাদিত করে রেখেছি এযাবৎ?
আমরাই আমাদের নিয়ত হত্যা করি,
কলুষিত রাজনীতির ছায়ায়
ক্ষমতা দখলের জন্য,
আধিপত্য বিস্তারের জন্য,
বর্ণ, ধর্ম, জাতি ভেদ ও প্রান্তিকতার নামে
প্রতিদিন প্রতি প্রান্তরে
আমরাই ঝরিয়ে দিই কত রক্ত, কত তাজা প্রাণ!
একে অপরের সম্পদ লুন্ঠন করি,
মুখোশ পরি,ছলনা ও প্রবঞ্চনা করি,
ফেলে আসা সেই আদিম বন্যতা
যখনই সুড়সুড়ি দেয় আমাদের মনে –
নিমেষে পিষিয়ে ফেলি গোলাপের পাপড়িগুলোকে নির্দয়ে!
চরিত্রের, সম্ভ্রমের ধর্ষণ করি প্রতি নিয়ত!
আমরাই আবার –
মোমবাতি জ্বেলে প্রতিবাদী হই,
রাজপথ জুড়ে মিছিল করি,
মানবতার হরি কীর্তন গাই!
ত্রাতা?
প্রেম বেঁটে সমব্যথী সেজে
গরম ভাষণে ভেসে
আসি খবরের শিরোনামে,
মহান?
কাগজ ভরাই কবিতা গল্প প্রবন্ধ লিখে,
ভাসাই চোখের জলে!
নিরুপায়?
আমরাই তো ছেড়ে আসি
একান্ত আপনজনকে বৃদ্ধাশ্রমে!
আত্মজ?
আমরাই তো গড়ি ভগ্ন প্রেমের প্রাচীর
জীবনসাথীর সাথে!
প্রেমী?
আমরাই মুখ ফিরিয়ে নিই
বুভুক্ষু পঙ্গু অথর্ব মানুষের ছবি থেকে!
মান আর হুঁশ বধ করে?
তাহলে
কে দিল সেরার উপাধি আমাদের?
সত্যিই
এ এক চরম বিস্ময়!!!!!!!!!!!
…………

শক্তি শঙ্কর পাণ্ডা : ( সাহিত্যে ছদ্মনাম “মেঘদূত”) তমলুক, পূর্ব মেদিনীপুর পশ্চিমবঙ্গ নিবাসী। জন্ম ইং ১৯৫৩ সাল। জন্মস্থান নন্দীগ্রাম। কেন্দ্রীয় সংস্থা BHEL হইতে অবসরপ্রাপ্ত। স্কুল কলেজ ও চাকুরি জীবন হয়ে এখনও সাহিত্যকে ভালোবেসে সাহিত্যের সঙ্গে আছেন। চাকুরি জীবনে শিশুদের জন্য “অণ্বেষা” নামক একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন। বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে বাংলা,হিন্দী ও ইংরেজীতে ছড়া,কবিতা,ছোট গল্প প্রকাশিত হয়েছে।
প্রথম কাব্যগ্রন্থ “চেতনা” তৎকালীন উপাধ্যক্ষ,বিদ্যাভবন,বিশ্বভারতী,শান্তিনিকেতনের অনুপ্রেরণায় ইং ২০০০ সালে প্রকাশিত হয়। ছবি ও ছড়ার বই “ছবিও কথা বলে” বক্রেশ্বর,সিউড়ি,বীরভূম থেকে ইং ২০০০ সালে প্রকাশিত হয়।
ইং ২০০১ সালে সাহিত্যাঙ্কুর সাহিত্য পত্রিকার সৌজন্যে নজরুল মঞ্চ থেকে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “অঙ্কোলিকা” ও শিশুদের ছোট গল্প “এসো গল্প বলি” প্রকাশিত হয়।
এখন প্রায় শতাধিক ই-সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। ইং ২০২৪ বর্ষে মিতালি সাহিত্য পত্রিকার তরফে “কবিরত্ন” উপাধি প্রদত্ত ও লিটারেচারে “স্বামী বিবেকানন্দ এক্সেলেন্স এওয়ার্ড ২০২৪” প্রাপ্ত। ” সাহিত্যে এপর্যন্ত পাঁচ শতাধিক সম্মাননা সনদ প্রাপ্ত।”
ভারত তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকলন বইতে লেখা প্রকাশিত নিয়মিত হয়।
সাহিত্যের সঙ্গেই বাকী জীবন কাটানোর ইচ্ছা।
