
সম্পাদকীয় – কাশবন ৭
দেবদত্ত বিশ্বাস
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে এবার মা আসছেন ঘোটকে।স্থানান্তরের জন্য পরিবহনের বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা আছে। কোন্ পথে গমন হবে তা নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং যাত্রীর উপর। মুখ্য গমনপথ মৌটামুটি তিন রকম। জল,স্থল ও আকাশ।এখানে ঘোটক অর্থাৎ ঘোড়ায় ভ্রমণকে স্থল পরিবহন বলা যেতে পারে। একটা প্রবাদ আছে,”বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। “পঞ্জিকা র মতে ঘোটকে আগমন বা গমনের ফল হলো ছত্রভঙ্গ।যা মোটেই মঙ্গলময় নয়। বিভিন্ন মতের পঞ্জিকা পরিক্রমা করে দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের এবং যুক্তরাজ্যের দেশগুলিতে,এশিয়ার অন্য অংশে এবার মায়ের আগমন ও গমন ঘোটকেই!বাস্তবিক,এই মহাদেশীয় দেশগুলিতে বর্তমানে কিন্ত অবস্থা অত্যন্ত অস্থির। তুলনায় আমাদের দেশে অস্থিরতা বেশ কম। মা ফিরবেন নৌকায়। জলপথে।ফল – শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা।
ফল- ছত্রভঙ্গের কথায় ফিরি।প্যারিসে বিয়াল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার কথা বিশ্বাস করা যায়?এই ইউরোপের দেশগুলি ঠান্ডা দেশ! পর্যাপ্ত ফ্যান,এসি নেই!দরকারই হয়না গ্রীস,ইতালি,ফ্রান্স,বৃটেনের মতন শীতপ্রধান দেশগুলি গরমে জ্বলছে, অকল্পনীয় ঘটনা ?এরপর উৎপাত হলো দাবানল!অরণ্য এবং বনের পশুপাখী শেষ হয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে।
কলকাতাতো গরম শহর। এখানে বিয়াল্লিশ ডিগ্রি কবে উঠেছে মনে পড়েনা। আমার এখানে,হংকংয়ের তাপমাত্রা জুন জুলাইয়ে ৩০-৩২ থাকে।এ সময়টা খুব ঝড়(এখানে টাইফুন বলে),সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে জনজীবন ওলোট পালোট হয়ে পড়ে। বাংলায় যেমন কালবৈশাখী! এসব মরসুমি ব্যাপার। কিন্ত প্যারিসে বিয়াল্লিশ ডিগ্রী !!
সাম্প্রতিক ছবিটা আপনাদের মনে পড়ছে?
শয়ে শয়ে মানুষ দৌড়াচ্ছেন প্রাণে বাঁচতে। পিছনে ধেয়ে আসছে বালি পাথর কাদা মেশানো ঘোলা জল। এর গতি ঘন্টায় ষাট থেকে আশি কিলোমিটার। আর মানুষের? গড়ে পনেরো থেকে আঠেরো কিলোমিটার! বহু প্রাণ হানি, গবাদি পশু,পোষ্য নিমেষে হারিয়ে গেল! দেখা গেলো ঐশ্বরিক তান্ডব। রাস্তার গাড়িঘোড়া টুপটাপ নদীতে পড়ছে। মানুষ জন ভয়াবহ ঘোলা স্রোতে অদৃশ্য।ঘরবাড়ি খোলামকুচির মতন। বড় বড় লৌহ সেতু দেশলাই কাঠির মত ভেঙে খান খান | হাড় হিম করা দৃশ্য | একেই তো বলে ছত্রভঙ্গ। বিজ্ঞানীরা বলছেন আসছে এলনিনো। আসছে গরম। প্রশান্ত মহাসাগরের জল গরম হয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে। গরম হাওয়া বাতাসে ভেসে আরব থেকে ব্যাঙ্কক তাপপ্রবাহ ছড়াবে! এর প্রভাবে এদেশের তাপমাত্রা নাকি ষাট ডিগ্রি ছুঁতে পারে।
আরেকটি বিপদের কথা একটু উল্লেখ করি। উত্তর বঙ্গের পাহাড়ি নদীগুলির মধ্যে তিস্তা সবচাইতে ভয়ানক। কারন,সিকিম রাজ্যে প্রায় দশ বারো হিমবাহ রয়েছে। এসবের জল বেরোনোর একমাত্র পথ হলো তিস্তা!
বিপদ এখন চতুর্দিকে। অরণ্য নিধন,যত্রতত্র হোটেল, হোমস্টে,ঘরবাড়ি তৈরি করে পাহাড়কে দুর্বল করা হচ্ছে। সমগ্র বিশ্ব এখন বিপদে। এই আবহাওয়ার মধ্যেই এসেছে মাতৃবন্দনা। এসেছে আমাদের আন্তর্জাতিক ও আন্তর্জালিক পত্রিকা কুলায় ফেরার শারদসংখ্যার প্রকাশ। চতুর্দিকে এই ধংসলীলা,মৃত্যু মিছিলে মন ভারাক্রান্ত। এই সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। অকালমৃতদের আত্মার শান্তিকামনা করি। এর মধ্যে একবছর কেটে গেলো। গত ১৯ নভেম্বর, ২০২৫,অকাল চলে গেলেন এক অন্যরকম মানুষ, এক অনন্য, শিল্পী অসম তথা ভারতের গর্ব জুবিন বড়ঠাকুর বা জুবিন গর্গ। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাই।
বাইরের দিন গুলো যেমন ক্রমশ: কঠিন হয়ে আসছে,অন্দরে কঠিন হচ্ছে তেমনি পত্রিকা প্রকাশের কাজ। কিছু বিজ্ঞাপন পেলে কাজটা অনেক মসৃণ হতো। সাহিত্য প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা সহজ হতো।
বরাবরের মতন এবারেও কিছু নীরব,নি:স্বার্থ সংস্কৃতি প্রেমীর পরিশ্রমে কুলায় ফেরা শারদ সংখ্যা সেজে উঠেছে। এই পরিবারের সকল পাঠকপাঠিকা,সম্পাদকীয় বিভাগের সদস্য-সদস্যারা,কম্পিউটার বিভাগের কুশলীরা, সঙ্গীতাঞ্জলির শিল্পীগণ এবং সর্বস্তরের শুভানুধ্যায়ীদের,পর্দার আড়ালের বন্ধুদের শারদ শুভেচ্ছা। সকলে আনন্দ করুন, সুস্থ থাকুন,পুজো ভালো কাটুক,এই কামনা করি।
নমস্কারান্তে,

দেবদত্ত বিশ্বাস
সম্পাদক। কুলায় ফেরা।
তারিখ ১৪/১০/২০২৬
