
যুদ্ধরত
জয়িতা সরকার
আমার বর্ণপরিচয় হারিয়ে গেলে তুমি নিরুদ্বেগ ;
তুমি তো আর বোবা হবে না!
কিন্তু যদি তোমারটাও উড়ে যায়?
ঝড় উঠছে সমতালে।
আমি কি অস্তিত্ব থেকে শব্দের ঋণ দিতাম না?
সহজ পুষ্পভার বয়ে নিতে অধৈর্য তুমি আজ,
ফুলের যে কাঁটা আমাকে ছুঁড়ছো, তোমার হাতে লাগবে না?
কষ্টদায়ক আঁকিবুকি কাটা হচ্ছে হৃদয়ের নরম চড়ায়—
কথায় বিঁধছো,
কোথায় বিঁধছো জানো?
ব্লেডের ঘায় ঘষে দিচ্ছো, ছিঁড়ে যাচ্ছে চামড়া।
তার তো ওপাশেও ধার!
তোমার লাগবে না তো?
কৃষ্ণপক্ষে চাঁদ ছুটি নিয়ে দূরে গেছে,
অন্ধকারে রক্তপাত অদৃশ্য হয়।
ইগো আসে শিকারি বনবিড়াল, প্রেমসত্তার ইজ্জত লোটে!
মাটির নীচে কুল কুল নদী বয়ে যায় …
শব্দ পাই বিধ্বস্ত শ্রবণে;
তৃষ্ণার অংকুর জেগে ওঠে।
পৃথিবীর গাছগুলো আজও ফল দেয়!
খুব কাছেই আছি আমি… তোমার প্রিয়।
আঘাত দিও তুমি যে কোনো সময়,
আঘাত দিও ।
কিন্তু সাবধান, দেখো তোমারও যেন না লাগে!
আসলে আমরা তো দুজনেই
রক্ত আর মাংসের দেহ বয়ে চলি নশ্বর!
বাটা চন্দন আছে ধুলো মেখে …শুকিয়ে গিয়েছে।
উঠোনের মাঝখানে অপেক্ষায় ভিটামিন ডি,
ক্ষয়ে গেল হাড়মাসশোণিতের ভালোবাসা,
বড় হয়ে উৎকট জেগে আছে উদগ্র “আমি“!
————————————————–
![]()
জয়িতা সরকার (বৈদ্যবাটী,হুগলী জেলা)
