
কবিতা তুমি জীবন-দর্শন
তীর্থঙ্কর সান্যাল
কবিতা কি শুধু কাব্য?
রস-কষহীন কতগুলো শব্দ,
তার কি আছে কোনো অন্তর্নিহিত অর্থ?
লেখার সময় বোঝা যায় কথাগুলো কোন স্রোতে ভাসবে,
অন্তর থেকে বেরিয়ে আসা ভাবের উপলব্ধিতে,
কথা ও সুরের মূর্ছনায় ছুটে চলে রহস্যের সমাধানে,
এ তো ভৌতিক ব্যাপার,
যার নেই কোনো রহস্য,
সে তো হৃদয়ের মণিকোঠায় উজ্জ্বল সদস্য।
ছোটবেলার সহজ-সরল বিশ্বাস আজ বড় অপরিচিত,
জটিল জঞ্জালে সীমাবদ্ধ,
নানা সমস্যার বাতাবরণে জর্জরিত,
মন সায় দেয় না, সে তো হতে চায় স্বাধীন-উদারচিত্ত।
এখন দর-কষাকষির জীবন,
কথাবার্তার কৌলীন্য অনেকদিন গত হয়েছে,
পরিণত বয়সে ভাবাবেগের বুকে ছুরি মারা হয়েছে,
সন্দিগ্ধ মন চায় নির্বাসন।
বার্ধক্যে উপনীত হলে বাকরুদ্ধ,
খবরের কাগজে খেলি শব্দজব্দ,
এক কথায় নির্বাক নির্বাসন,
কারও কাছে নেই মোর প্রয়োজন।
ওপরের ভাবনায় তো শুধু অতীত ইতিহাস,
নেই কোনো ক্রিয়াশীল নির্যাস,
নতুন করে বাঁচার দরজাগুলো খোলা,
কিন্তু দেখি খালি অতীতের বন্দিদশা,
যেই স্থিতিশীল দরজায় পা ফেলি,
থরে থরে সাজানো নতুন করে বাঁচার মণি-মাণিক্যের ঝুলি,
এ যেন সবাইকে নিয়ে বাঁচার অঙ্গীকার,
এক শুভ্র সতেজ জীবনের আবিষ্কার।
স্বামীজিকে আজ বড় মনে পড়ছে,
“মন চল নিজ নিকেতনে,
সংসার বিদেশে বিদেশির বেশে, ভ্রম কেন অকারণে,
মন চল নিজ নিকেতনে।”
—————————————————

