
“এবার পুজোয়”
কলমে – অঙ্কন দন্ড
~~~~~~~~~~~~~~~
অনেক বছর হলো দেখা হয় না।
সেদিন ট্রেনে যখন তোর সাথে দেখা হলো
বুঝতে পেরেছিলাম তুই এড়িয়ে যেতে চাইছিলি।
আমিই অতীতের সব কণ্ঠ রোধ করে
আগ বাড়িয়ে নিলাম তোর খোঁজ।
কথার ফাঁকে বললাম – “দুর্গাপুজোয় আদ্রা এলে দেখা হবে।“
কিছুদিন বাদেই পুজো,
জানি না তুই আসবি কি না।
জানিস, খুব মনে পড়ছে সেই পুরনো দুর্গাপুজোর দিন গুলো।
একবার সপ্তমীতে তোকে না জানিয়ে বন্ধুদের সাথে
চলে গেছিলাম কাশীপুরের রাজবাড়ি।
তুই কি ঝগড়াটাই না করেছিলি আমার সাথে!
অষ্টমীর দিনে তোকে শাড়িতে দেখবো বলে
উত্তেজনায় রাতে ঘুম হতো না আমার।
তোর কুঁচির ভাঁজে ভাঁজে আমার জন্যে
ভালোবাসা লেখা থাকতো।
তোর কপালের টিপ জানান দিত
আমার প্রতি তোর অনুরাগ।
তোর কাজলে আমি সাহস খুঁজে পেতাম,
ছুঁয়ে যেতাম গোলাপী অধর।
অঞ্জলির সময় তোর পাশে দাঁড়িয়ে
তোকেই চেয়েছি শুধু।
তুই খুব সহজেই সব কিছু বুঝে যেতিস,
আমিই বুঝতে পারিনি তোকে।
তুই আমার পকেটের অবস্থা বুঝে
ঢুকতে দিতিস না বড় কোনো রেস্তোরায়।
সামান্য ফুচকা আর রোলেই
খুঁজে নিতিস অপার সুখ।
তোর আহ্লাদী মুখখানি দেখে
আমারও মন ভরে উঠতো।
হাতে হাত রেখে, হাঁটা পথে মণ্ডপে মণ্ডপে
লেখা থাকতো আমাদের প্রেমাঞ্জলি।
পুজোর চারটে দিন কি দ্রুততায় পেরিয়ে যেত!
পুজো শুরু হতেই যেন দশমী।
না আমি তোকে সিঁদুর মাখাইনি।
আমি তোকে একবারে আমার করে পেতে চেয়েছিলাম।
এখনও পুজো আসে, পুজো যায়।
আমি বেশি সময়টা ঘরেই পড়ে থাকি।
আঁকড়ে থাকি তোর আমার সেই স্মৃতি গুলো।
আশায় আছি, এবার যদি পুজোয় দেখা হয়
প্রেমিকা হয়ে নয়, বন্ধু হয়েই
একটা রোল খাওয়াবি?
——————————————————

অঙ্কন দণ্ড, জন্ম ২০০৩ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী। বাসস্থান পুরুলিয়া জেলার আদ্রায়। মাতার নাম বনশ্রী দণ্ড, পিতার নাম স্নেহাশিস দণ্ড। অঙ্কনের লেখালেখির পথ চলা কবিতা দিয়ে। আনন্দবাজার পত্রিকার জেলার পাতা ” ছোটদের পাতা ” শীর্ষক – এ তার স্বরচিত কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হত। স্থানীয় পত্রিকা ” ঊষশী” তেও স্থান পেয়েছে তার কবিতা। এছাড়া নানান গল্প ও প্রবন্ধ লিখে স্থানীয় স্তরে অনেক শুভেচ্ছালাভ করেছে সে। লেখালেখির পাশাপাশি ছবি আঁকাতেও সমান পারদর্শী অঙ্কন। অঙ্কনের রয়েছে ক্রিকেট ও গান এর প্রতি অসীম আগ্রহ।
