Shadow

Author: Kulayefera

সম্পাদকীয় – কাশবন ৭

সম্পাদকীয় – কাশবন ৭

কাশবন ৭
সম্পাদকীয় - কাশবন ৭ দেবদত্ত বিশ্বাস বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে এবার মা আসছেন ঘোটকে।স্থানান্তরের জন্য পরিবহনের বিভিন্ন রকম ব্যবস্থা আছে। কোন্ পথে গমন হবে তা নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং যাত্রীর উপর। মুখ্য গমনপথ মৌটামুটি তিন রকম। জল,স্থল ও আকাশ।এখানে ঘোটক অর্থাৎ ঘোড়ায় ভ্রমণকে স্থল পরিবহন বলা যেতে পারে। একটা প্রবাদ আছে,"বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। "পঞ্জিকা র মতে ঘোটকে আগমন বা গমনের ফল হলো ছত্রভঙ্গ।যা মোটেই মঙ্গলময় নয়। বিভিন্ন মতের পঞ্জিকা পরিক্রমা করে দেখলাম যুক্তরাষ্ট্রের এবং যুক্তরাজ্যের দেশগুলিতে,এশিয়ার অন্য অংশে এবার মায়ের আগমন ও গমন ঘোটকেই!বাস্তবিক,এই মহাদেশীয় দেশগুলিতে বর্তমানে কিন্ত অবস্থা অত্যন্ত অস্থির। তুলনায় আমাদের দেশে অস্থিরতা বেশ কম। মা ফিরবেন নৌকায়। জলপথে।ফল - শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। ফল- ছত্রভঙ্গের কথায় ফিরি।প্যারিসে বিয়াল্লিশ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রার কথা বিশ্বাস...
সুখ – ঋতপা ভট্টাচার্য 

সুখ – ঋতপা ভট্টাচার্য 

কাশবন ৭
সুখ ঋতপা ভট্টাচার্য    ঊষর মরু পেরিয়ে আমি আজ             পা রেখেছি সবুজ বনাঞ্চলে  রুক্ষ দিনের দুঃখ ভুলে তাই  সুখ বেঁধেছি বাসন্তী অঞ্চলে।   বসন্ত আজ কৃষ্ণচূড়ার ডালে রং ধরেছে মনেরও আবডালে দুঃখ-সুখে , রৌদ্র-ছায়ার           নিবিড় দোলাচলে ; রুক্ষ দিনের দুঃখ ভুলে তাই        সুখ বেঁধেছি বাসন্তী অঞ্চলে।   অনেক যোজন পথ হেঁটেছি একা ক্লান্ত দেহ চাইছে অবসর --  একান্তে আজ নিজের সঙ্গে দেখা আলাপচারিতা অতঃপর।  কথার সাথে কথার মালা গাঁথি  মনগহীনে স্মৃতির চরৈবেতি; সাদায়-কালোয় আঁধার-আলোয়     কান্না - হাসির ছলে। উজাড় করে হৃদয়খানা আজ     সুখ বেঁধেছি বাসন্তী অঞ্চলে।   সুখ আমাকে যতই  দিক না  ফাঁকি বুকের খাঁচায় রাখব তাকে ধরে। রামধনু রং মাখিয়ে নিয়ে গায়ে  দুঃখ  গুলোও নেব রঙিন করে। রঙের নেশায় বুঁদ হয়...
যুদ্ধরত – জয়িতা সরকার

যুদ্ধরত – জয়িতা সরকার

কাশবন ৭
যুদ্ধরত জয়িতা সরকার     আমার বর্ণপরিচয় হারিয়ে গেলে তুমি নিরুদ্বেগ ;  তুমি তো আর বোবা হবে না! কিন্তু যদি তোমারটাও উড়ে যায়? ঝড় উঠছে সমতালে।  আমি কি অস্তিত্ব থেকে শব্দের ঋণ দিতাম না? সহজ পুষ্পভার বয়ে নিতে অধৈর্য তুমি আজ, ফুলের যে কাঁটা আমাকে ছুঁড়ছো, তোমার হাতে লাগবে না? কষ্টদায়ক আঁকিবুকি কাটা হচ্ছে হৃদয়ের নরম চড়ায়--- কথায় বিঁধছো, কোথায় বিঁধছো জানো? ব্লেডের ঘায় ঘষে দিচ্ছো, ছিঁড়ে যাচ্ছে চামড়া। তার তো  ওপাশেও ধার! তোমার লাগবে না তো? কৃষ্ণপক্ষে চাঁদ ছুটি নিয়ে দূরে গেছে, অন্ধকারে রক্তপাত অদৃশ্য হয়। ইগো আসে শিকারি বনবিড়াল, প্রেমসত্তার ইজ্জত লোটে! মাটির নীচে কুল কুল নদী বয়ে যায় ... শব্দ পাই বিধ্বস্ত শ্রবণে; তৃষ্ণার অংকুর জেগে ওঠে। পৃথিবীর গাছগুলো আজও ফল দেয়!  খুব কাছেই আছি আমি... তোমার প্রিয়।  আঘাত দিও...
পলাতক – মণি ফকির

পলাতক – মণি ফকির

কাশবন ৭
পলাতক মণি ফকির   ভন্টু বাবু কে মনে পড়ে? আমাদের ভন্টু ডাক্তার রে। কেউ বলত দাদা, কেউ কাকু; অনেকে নাম ধরে ডাকত।   তাস, দাবা খেলে বেড়াত, পসার তেমন ছিলনা। গভীর রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হলে, বা নকল মেডিক্যাল সার্টিফিকেট, এসবের জন্য ছিল তার নামডাক। বড়রা পরিহাস করে বলতেন ভন্টু ডাগতার ফ্রম ডেক্কা।   লোকে নেহাৎ চক্ষুলজ্জার খাতিরে, নাম মাত্র ভিসিটে ওনাকে দেখাত।   মাঝে মধ্যে এম আর দের ডেকে বলতেন "একটু দেখো ভাই"।   ভন্টু দা কে, কেউ খুব উঁচু চোখে দেখতো না, আবার খুব একটা নীচু চোখেও নয়। বলতে গেলে, গোটা পাড়ায়, উনি ছিলেন সবচেয়ে গুরুত্বহীন, একা,একটি মানুষ।   কোনো আত্মীয় পরিজন, কস্মিনকালেও কেউ দেখেনি।  মাঝে মাঝে, দূর সম্পর্কের এক ভাগনে আসত।   একটা ঘটনার পর, হঠাৎ সব কিছু কেমন বদলে গেল।    সেদিন...
জীবন খাতার প্রতি পাতায় – ব্রতী ঘোষ

জীবন খাতার প্রতি পাতায় – ব্রতী ঘোষ

কাশবন ৭
জীবন খাতার প্রতি পাতায় ….. ব্রতী ঘোষ  ' মা -তোমার হলো ?গাড়ি এসে গেছে কিন্তু |' ' এই যাচ্ছি - অভি |'  ' মা - চলো |' অভি ঘরে ঢুকে মাকে দেখে এগিয়ে আসে ড্রেসিং টেবিলের কাছে |  ' দেখি ' - বলে , ছোট্ট ছোট্ট আঙুলে মায়ের কপালের টিপটা একটু সোজা করে বসিয়ে দেয় |  রুচিরার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে | প্রণয় যে এভাবেই ওর কপালের টিপ ঠিক করে দিত । কখনো ওকে বলত না তোমাকে সুন্দর লাগছে শাড়িটা পরে । ওর ওই টিপ ঠিক করে দেওয়াই বুঝিয়ে দিত যে ওকে দেখতে ভালো লাগছে | আজ মহা অষ্টমীর দিন। পাড়ার মাইকে একটানা দুর্গা স্তোস্ত্র উচ্চারিত হচ্ছে | আকাশে বাতাসে প্রতিনিয়ত অনুভূত হচ্ছে পুজোর আনন্দ | ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও অভির জোরাজুরিতে রুচিরাকে গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছে ঠাকুর দেখার জন্য | ওর মাকে বাড়িতে একা রেখেই বেরোতে হচ্ছে । প্রতি পুজোতেই ও সবাইকে নিয়ে কলকাতার বাইরে চলে যায় । কিন্তু এবারে অভির মন রাখতে...
গল্পের নাম:ঋদান – রেশমি দত্ত

গল্পের নাম:ঋদান – রেশমি দত্ত

কাশবন ৭
গল্পের নাম:ঋদান রেশমি দত্ত এবারের গল্পটা শুরুই হবে না যদি না তার সঙ্গে আলাপ করি। তাকে নিয়েই এবারের গল্প। হ্যাঁ, আমি ঋদানের কথা বলছি, বয়স চোদ্দ বছর। সবে গোঁফের রেখা উঠেছে, হাফ প্যান্ট ছেড়ে ফুল প্যান্ট পরে এখন স্কুল যায় সে। ফুটবল পাগল, সারাদিন সবকিছুতে হেড-গোল দিচ্ছে, ঘুমের মধ্যেও 'গোওল গোওল' করে চেঁচায়। গলার স্বরটা ভাঙতে শুরু করেছে, যা বাড়ির সবার বিরক্তির কারণ। মোবাইলের প্রতি সম্প্রতি এত টান জন্মেছে যে সুযোগ পেলেই এর মোবাইল, ওর মোবাইল নিয়ে টানাটানি, গেম খেলার নেশা। হাতে-পায়ে এত চঞ্চল যে বাড়ির লোক তাকে নিয়ে অস্থির। দিনে দিনে সবার বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে সে। ছোট থেকেই সে বড় চঞ্চল, অনুসন্ধিৎসু মন তার, কোনো খেলনা তার আস্ত থাকে না, ঘরের একটা আয়নাও আস্ত নেই, সব বল নিয়ে হেড আর ক্যাচ করার ফল। কোনো পেন দুদিনের বেশি তিন দিন নয়, পেনটাকে খুলে, তার মেকানিজম জানতেই হবে ঋদানকে। বাড়ির সব...
শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি – কঙ্কনা সেন

শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি – কঙ্কনা সেন

কাশবন ৭
**শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি** কঙ্কনা সেন ঘন কালো মেঘের আস্তরণ সরিয়ে স্বচ্ছ নীলাকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভাসিয়ে প্রকৃতি রানী এখন শরত-শোভায় সেজে ওঠে। মাঠের ধারে ,নদী তীরে আপনা আপনিই ফুটে ওঠে কাশফুল।সকালে ঘাসের আগায় শিশির বিন্দু ,ঝরে পড়া শিউলি,শালুক,পদ্ম যেন বলে ওঠে--"এসেছে শরৎ /হিমের পরশ/লেগেছে হাওয়ার পরে,,,,,,"সে ছবি তো আপামর বাঙালির মনের পটে চিরস্থায়ী করে রেখেছেন  রবীন্দ্রনাথ।আর শারদ প্রকৃতির মনোহরণ এই রূপের সঙ্গে মিশে আছে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদোৎসব দুর্গাপুজো। মা যে  আসছেন সবার আগে প্রকৃতি -মা জানান দেন।পথের দুধারে বিস্তীর্ণ ভূমি জুড়ে আলো করা কাশ প্রকৃত অর্থে পরিপূর্ণ প্রকাশ বা বিকাশ।আমাদের অন্তরের সব গ্লানি ,ক্ষুদ্রতা ধুয়ে মুছে পবিত্র শুচি শুভ্রতায় ফুটিয়ে তোলাই মানব জীবনের সার্থকতা।শিউলি তার গৈরিক বৃন্তে প্রস্ফুটিত শুভ্রতায় সেই শিক্ষায় দেয় নীরবে। তাই শুধুমাত্র বাহ্য...
“মানব”- মেঘদূত

“মানব”- মেঘদূত

কাশবন ৭
শিরোনাম "মানব"   কলমে :: মেঘদূত    আমরা মানব - জীব জগতের শ্রেষ্ঠত্ব আমরা নিজেরাই দাবী করি। বন্য আদিম যুগ থেকে  আজকের তথাকথিত সভ্য মানব বলতে  বলতে বিস্তর পথ পাড়ি দিয়েছি আমরা, গড়েছি ভেঙেছি কত ইতিহাস!    আমরা সত্যিই কি আদিম প্রবৃত্তিগুলো  বনেই ফেলে এসেছি? না কেবল তাকে আধুনিকতার মোড়কে  আচ্ছাদিত করে রেখেছি এযাবৎ? আমরাই আমাদের নিয়ত হত্যা করি, কলুষিত রাজনীতির ছায়ায়  ক্ষমতা দখলের জন্য,  আধিপত্য বিস্তারের জন্য,  বর্ণ, ধর্ম, জাতি ভেদ ও প্রান্তিকতার নামে প্রতিদিন প্রতি প্রান্তরে আমরাই ঝরিয়ে দিই কত রক্ত,  কত তাজা প্রাণ! একে অপরের সম্পদ লুন্ঠন করি,  মুখোশ পরি,ছলনা ও প্রবঞ্চনা করি, ফেলে আসা সেই আদিম বন্যতা  যখনই সুড়সুড়ি দেয় আমাদের মনে - নিমেষে পিষিয়ে ফেলি গোলাপের পাপড়িগুলোকে নির্দয়ে! চরিত্রের, সম্ভ্রমের ধর্ষণ ক...
ছবি – প্রতিক সেন

ছবি – প্রতিক সেন

কাশবন ৭
প্রতিক সেন — ক্যামেরার চোখে মানুষ, সংস্কৃতি ও সময়ের ছোট ছোট গল্প খুঁজে বেড়ান। মুহূর্তকে সাজিয়ে তোলার চেয়ে, তার স্বাভাবিকভাবে ধরা দেওয়ার অপেক্ষায় থাকতেই বেশি বিশ্বাসী।
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!