Shadow

Author: Kulayefera

সম্পাদকীয় – কুলায়ফেরার বিহানবেলায় ৬

সম্পাদকীয় – কুলায়ফেরার বিহানবেলায় ৬

বিহানবেলায় ৬
সম্পাদকীয় কুলায়ফেরার বিহানবেলায় ৬ তখন ব্রিটিশজাত বর্মা অয়েল কোম্পানী আফ্রিকা,মধ্যপ্রাচ্য,এশিয়ার কিছু দেশে পাতালের তেল ভান্ডার হন্যে হয়ে  খুঁজে বেড়াচ্ছে।স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বর্মাদের সদর দপ্তর হলেও বিশ্বজুড়ে এর কারবার তখন প্রায় একচেটিয়া। ভূবিজ্ঞানীরা বলছেন মধ্যপ্রাচ্যের মরুদেশ গুলির তলে বিশাল তেলভান্ডার থাকতে পারে।।অবশেষে ১৯০৮ সালের ২৬ মে পারস্য দেশের মাটির তলায় খুঁজে পাওয়া গেলো বিশাল তেল ভান্ডার। এর পর বাহরিন,সৌদিআরব থেকেও প্রচুর তরল সোনার খোঁজ এলো।১৯৩৮ সাল থেকে তৈল উত্তোলন শুরু। এই পারস্য দেশই এখনকার ইরান।এই বিশাল বিশাল তরল স্বর্ণভান্ডার দখলে লেগে গেলো বিশ্বের শক্তিশালী ও ধুরন্ধর দেশগুলি।আজকের ইরান বনাম আমেরিকা যুদ্ধের কারণও এই তেলের দখলদারি নিয়ে।১৯৭৪ সালের ৮ জুন আমেরিকা ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত পেট্রো ডলার এগ্রিমেন্ট। মেয়াদ ৯ জুন ২০২৪ পর্যন্ত।সৌদি নতুনকরে চুক্তিতে সই করলোনা।...
মনের হদিশ – ব্রতী ঘোষ

মনের হদিশ – ব্রতী ঘোষ

বিহানবেলায় ৬
মনের হদিশ ব্রতী ঘোষ আজকাল এক একটা রাত  ভারী পাথর হয়ে নেমে আসে বুকের মাঝে । সে চাপ সহ্য করা বড় কঠিন হয়ে পড়ে - দীপালি ভাবে ।  আজ সেরকমই একটা রাত | কিছুতেই যেন দুচোখের পাতা এক করতে পারছে না দীপালি | ঘড়ির কাঁটার টিক্ টিক্ শব্দ রাত্রির অন্ধকারকে খান্ খান্ করে দিয়ে  কেবলই  জানান দিচ্ছে - তুমি একা !  তুমি নিঃসঙ্গ !!  নিদ্রাহীন রাতের যে কষ্ট সেটা যে না  অনুভব করেছে সে ঠিক বুঝতে পারবে না | দীপালি ভাবে সারাদিন তো ও যথেষ্ট পরিশ্রম করে |  সকালে উঠে ছাদে হাঁটা,গাছে জল দেওয়া,  রান্নাবান্না করা , আরো কত কি ! এত পরিশ্রমের পরও কেন যে ঘুম আসে না !  আজকাল  একা রান্না করে খেতেও আর ভালো লাগে না |  একা একা যে খেতে ভালো লাগে না সেটা ঋক্ বুঝলে তবে তো  !  লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে ঋক্ দুটো বছর বাড়িতে থেকেই কাজ করেছে |  দীপালি  রিটায়ার করলো আর লকডাউন শুরু হল। মা ছেলেতে বেশ ছিল  |  দুটো বছর কোথা দিয়ে  ...
রোশনি – মধুমিতা মিত্র

রোশনি – মধুমিতা মিত্র

বিহানবেলায় ৬
রোশনি মধুমিতা মিত্র সামনের দোতলা লাল বাড়ি থেকে হুড়মুড়িয়ে বেশ লাবণ্যময়ী গাবলুগুবলু ফর্সা, মিষ্টি একটি অল্পবয়সী বৌ চোখে সানগ্লাস লাগিয়ে হাতে ততোধিক মিষ্টি একটা ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে বেরোলো।বাড়ির সামনেই পার্ক করা তাদের লাল চার চাকার দরজা খুলে"অভ্যু অভ্যু-জলদি জলদি -স্কুলে দেরী হয়ে যাচ্ছে "বলে ঠেলে বাচ্চাটিকে তুলে নিজেও উঠলো। সেই সকাল সাড়ে সাতটায় মৈত্রীর তখন চা-বেলা,ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপটি নিয়ে মৈত্রী অলস মনে সকালের মৌতাত নিচ্ছিল।বিয়ের পর থেকেই স্বামীর কর্মস্থলে নানান গঞ্জ, স্যাটেলাইট-অনু শহরে দিন কাটিয়ে জীবনের এই গোধূলি বেলায় তাদের এখন নীড়ে ফেরার পালা।মৈত্রীদের আধাখ্যাঁচড়া বাড়ি সম্পূর্ণ করতেই কোয়াটার্সের প্রবাস জীবন ছেড়ে সাময়িক ভাবে স্হিত সে শাশুড়ি -আলয়ে।আসলে মৈত্রীর অকাল বিধবা শাশুড়ি প্রতিমা দেবী তাঁর প্রয়াত স্বামীর কেনা জমিতে মাথাগোঁজার একটি ঠাঁই বানিয়ে রয়েছেন সেই...
স্নেহের সম্পর্ক – রেশমি দত্ত

স্নেহের সম্পর্ক – রেশমি দত্ত

বিহানবেলায় ৬
স্নেহের সম্পর্ক রেশমি দত্ত সৈকত ও দময়ন্তী বেহালায় একটা বহুতল ফ্ল্যাটে থাকে।প্রায় পাঁচ বছর হলো ওদের বিয়ে হয়েছে।এবার ওরা দুজন থেকে তিনজন হবার প্ল্যানিং করছে।ওদের ফ্ল্যাটের ঠিক নিচের ফ্ল্যাটে থাকে অভীক ও আত্রেয়ী,ওরা দুজনেই সৈকতের অফিস কলিগ,দুজনের বাড়ি আসানসোল।এক সঙ্গে পড়াশোনা করতো,পরে একসঙ্গে ক্যাম্পাসিং এ চাকরি পেল। স্কুল জীবন থেকেই ওদের গাঢ় প্রেম।খুব আন্ডার স্ট্যান্ডিং দুজনের | লিভ টুগেদার করে ওরা | দুজনেই সংসারী হতে চায়না | কিছু বললে বলে "সংসার,সন্তান ওদের কম্ম নয়"।শুধু ঘুরে বেড়ায় দুজনে,ট্রেকিং করে,যেন দুটো মুক্ত বিহঙ্গ। বছর খানেক হলো ওরা এই ফ্ল্যাটে এসেছে। হঠাৎ একদিন একটু রাতের দিকে খুব চিৎকার শোনা যাচ্ছিল ওদের ফ্ল্যাট থেকে। সৈকত-দময়ন্তী তখন প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে,হঠাৎ এতো চিৎকারে দময়ন্তীর ঘুম ভেঙে গেলো,সৈকতকে ডেকে তুলে দুজনেই গেল ওদের ফ্ল্যাটে ।দময়ন্তীকে দেখে আত্রেয়ী জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো...
সহজ হও কিন্তু সহজলভ্য নয় – সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী

সহজ হও কিন্তু সহজলভ্য নয় – সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী

বিহানবেলায় ৬
সহজ হও কিন্তু সহজলভ্য নয়   সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী    দুর্বার সহনশীলতাকে সবাই তারিফ করে, কিন্তু কেউ কী জানে এই মেনে নেওয়ায় সে মরে। তার কষ্টের কথা বলতে পারে না উঁচিয়ে মাথা, তার নেই দাম, রয়েছে ক্ষত বিক্ষত দেহের ব্যথা। একটু চড়া বা একটু কম হলে সূর্যকে করি ব্যঙ্গ, বুঝতে চাই কী রোদ না থাকলে আমরা হতাম সাঙ্গ ? দিনের আলো অযাচিত ভাবে যতই দেখাক ভাতি,   তবু সকলের কাছে বেশি দামী রাতের নিয়ন বাতি। স্বার্থান্বেষী ভেঙে ফেলছে , হারাচ্ছে নিজ বাহার, সহ্যের সীমার নেই পরিধি , তাই বিদগ্ধ আজ পাহাড়। আপনজন ভেবে যাকে দেয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব, সময় এলেই বুঝতে পারে কতটুকু তার আছে অস্তিত্ব। যে সবসময় পাশে এসে দাঁড়ায়, নেয় কিছু ভার, দুর্লভ পায় আদর ,সহজলভ্য যে দাম থাকে কি তার ! ----------------------------------------- সঞ্জয় কুমার চ্যাটার্জী  গ্ৰাম -...
সত্যেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যাপীঠ – সৌমিক কার্ফা 

সত্যেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যাপীঠ – সৌমিক কার্ফা 

বিহানবেলায় ৬
।। সত্যেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যাপীঠ ।। সৌমিক কার্ফা    সুবিমল স্যার ক্লাস নাইন-এর ঘরে ঢুকতেই ধেয়ে এলো একটাই অনুরোধ— “স্যার, আজকে একটা গল্প বলুন, আজ আমরা পড়ব না।” সুবিমল বসু, হুগলি জেলার হরিপুর গ্রামের “সত্যেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যাপীঠ”-এর গণিত শিক্ষক। স্বল্পভাষী, মধ্যবয়স্ক, রাশভারী এই শিক্ষককে ছাত্ররা যেমন সমীহ করে, তেমনই ভালোবাসে। ভালোবাসার কারণ দুটো। প্রথমত, তিনি যখন ক্লাসে এসে অঙ্ক করান, তখন ছাত্রছাত্রীদের মনে হয়—অঙ্কের মতো সহজ বিষয় আর কিছু নেই। আর দ্বিতীয় কারণ, তাঁর অফুরন্ত গল্পের ভান্ডার। কোনও কোনও অলস দিনে, যখন পড়ার চাপ খুব বেশি থাকে না, তখন সুযোগ মেলে সেইসব মজার, রোমাঞ্চকর গল্প শোনার। আজ তেমনই একদিন। কাল থেকে গরমের ছুটি। ইউনিট পরীক্ষাও শেষ। রেজাল্ট বেরোবে সেই ছুটির পর। এমন দিনে কারই বা পড়তে ইচ্ছে করে? স্যারেরও আজ মনমেজাজ বেশ ভালো। চক আর ডাস্টার টেবিলে রেখে আরাম করে কাঠের...
সঙ্গে চল – চিন্ময় চক্রবর্তী

সঙ্গে চল – চিন্ময় চক্রবর্তী

বিহানবেলায় ৬
সঙ্গে চল চিন্ময় চক্রবর্তী পাঁচটা মাছ, একটা গাছ। তাই ঘিরে, চলছে নাচ। গোল পাতা, রোদ জলে। ভিজছে না। যাচ্চলে। ঝগড়া নেই। নেই বিবাদ। তাও শুনি আর্তনাদ। পাঁচটা মাছ। সাঁতরে যায়। জলের ক্ষেত খুবলে খায়। চেঁচায় কে? কেউ জানো? করছে কী জল পানও? মাছরা কী স্নান করে? সাবান দেয়? গান ধরে? আমার খুব ইচ্ছে হয়, ওই পাতায় কেউ ঘুমায়। নড়বে তাও, ভিজবে না। জল তবু, খুব চেনা। জলপরী? ধুত্তোরি। পাচ্ছে প্রেম। কীই করি। আচ্ছা থাক্।পাঁচটা মাছ। জল দাপাক।চলুক নাচ। আমিও ঠিক নামবো ঠিক। সাঁতরাবো দিক বিদিক। মাছ হবো। গভীর জল। ইচ্ছে হয়, সঙ্গে চল্।। ---------------------------------------- চিন্ময় চক্রবর্তী পরিচিতি: জন্ম ১৯৬৫ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি চন্দননগরে। রসায়নে সাম্মানিক নিয়ে স্নাতক। তারপর পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতোকোত্তর। তারপর কর্মক্ষেত্র ও নানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বুড়ি ছোঁওয়া। তার মধ্যে আই আই এম কল...
রাণীশ্বরে একুশে ফেব্রুয়ারি – বিদ্যুৎ পাল

রাণীশ্বরে একুশে ফেব্রুয়ারি – বিদ্যুৎ পাল

বিহানবেলায় ৬
রাণীশ্বরে একুশে ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ পাল   তেমাথায় আমগাছটা থাকবে।  অন্য কেউ উঠলে বড়ো রাস্তায়, টিপটিপ ভেজাবে ফেব্রুয়ারির মেঘলা দুপুর – বাজারে, প্রান্তরে।  বাইক দাঁড় করিয়ে, বাংলাপ্রাণ  দুই বাহাত্তুরে জিজ্ঞেস করবে, পরবর্তী বাসটা যাবে কখন দুমকা কিম্বা সিউড়ি … তখনই মুকুলগন্ধ জড়াবে নশ্বরতা।    এবংবিধ যাপনগুলো কখনো  জন্ম নেওয়া হয়। গৌতমবাবুর ডাকে তন্ময়, রতনবাবু, আমি, ময়ূরীর কেকায় ধ্বনিত আশ্রমে কাটাই একসন্ধ্যা-রাত-সকাল – বালকেরা পড়ে। রান্নার মাসিরা রাঁধেন। তত্ত্বাবধায়ক স্বামীজি,    সাঁওতাল, সবার অভিভাবক, নিজে সব পাতে চাটনি বাড়েন।     খুব নতুন কিছু করি না, জানি। জিইয়ে রাখি স্বপ্ন, প্রশ্ন, সংগ্রাম। অলখ জাগিয়ে রাখা যাকে বলে। দাঁতের চাপে নড়ে যায় চোয়াল। একতার সূত্র, বন্ধু, ফুল ছিঁড়ে সুতোয় খুঁজো না। দেশ ঋদ্ধ ...
মৈনাক – জলি চক্রবর্তী শীল

মৈনাক – জলি চক্রবর্তী শীল

বিহানবেলায় ৬
মৈনাক জলি চক্রবর্তী শীল চিত্র ১ .... মৈনাক নিজের ছোট দোকানে একটা বাইকের সার্ভিসিং  আর একটা সাইকেলের মেরামতি করতে ব্যস্ত ছিল |  আজই দুটো ডেলিভারী দিতে হবে | সদ্য সে দোকানটা খুলেছে | মন দিয়ে কাজ না করতে পারলে দাঁড়াবে কি করে ? বাবার  বয়স হচ্ছে যদিও বাবা কোনকালেই তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না সেটা সে জানে ‚ তবু বয়সটাকে অস্বীকার করা যায় না |  লেখাপড়া তেমন তার ভালো লাগেনি‚ শেখার প্রয়োজনও মনে হয়নি | হিসাব নিকাশটা ভালোমত রপ্ত করেছে  | কাজ শিখেছে মোটর মেকানিকের |  বাবা কিছু পুঁজি দিয়েছিলেন তাই দিয়েই দোকানটা খেটেখুটে দাঁড় করানোর চেষ্টায় আছে সে | ঠিক সেইসময় কোথা থেকে ছুটতে ছুটতে এল কাৎলা | 'এই মিনু সর্বনাশ হয়ে গেছে' মৈনাকের বন্ধুরা মৈনাককে মিনু বলেই ডাকে | মৈনাকের মধ্যে একটু মেয়েলি ধরণ আছে বলে বন্ধুরা সেই ছোট থেকেই তাকে মিনু বলে ডেকে আসছে  | এই কাৎলাও মৈনাকের ছোটবেলার বন্ধু | এক পাড়াতেই বাস ...
মানচিত্র – কঙ্কনা সেন

মানচিত্র – কঙ্কনা সেন

বিহানবেলায় ৬
মানচিত্র   কঙ্কনা সেন   আর কতো হিংসা দ্বেষ রয়ে যাবে অবশেষ? আর কতো রক্ত ঝরবে অনিবার? কতো মায়ের কোল শূন্য হবে? কতো নারী স্বামীহারা  কতো শিশু পিতাকে খুঁজবে?   মদগর্বী মানুষ পৃথিবীর মানচিত্রকে  করে খানখান লোভানলের আগ্রাসী লেলিহান শিখা গ্রাস করে নির্বিশেষে শৈশব যৌবন সুস্থ জীবন।   ইতিহাস নতুন করে রচিত হোক সেই মোগল -পাঠান -পাণিপথ যুদ্ধের  চর্বিত চর্বণ নিপাত যাক্।   যারা মাঠে ফসল ফলায়  গড়ে তোলে রাজপথ শব্দচাষে যারা এঁকে চলে চলমান জগতের প্রতিচ্ছবি সেই অগণিত মানুষের করি জয়গান।। —---------------------------------------------   চরৈবেতি   কঙ্কনা সেন   মনের আঁধারে মেঘ যদি জমে বৃষ্টিধারায় ধুইয়ে দাও চলার পথে  বাধা বিষম পায়ে পায়ে পেরিয়ে যাও।   বৈ...
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!