Shadow

Author: Kulayefera

ভেজা চিঠি – তিতিলা মুখার্জি

ভেজা চিঠি – তিতিলা মুখার্জি

বিহানবেলায় ৬
ভেজা চিঠি তিতিলা মুখার্জি আকাশ,            কোথায় তুমি ? আমার খাটের পাশে এই জানলা দিয়ে দেখছি অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে | এখন দুপুরবেলা কিন্তু আকাশ টা যে কি অন্ধকার কী বলবো l জানো এই মেঘ বৃষ্টি কেমন যেন একটা মন কেমন করা l মন খারাপ হলেই কে জানে কেন, শুধু তোমাকেই মনে পড়ে l তাই তোমাকে চিঠি লিখতে বসলাম l             তোমাকে দেখেছিলাম সেই কলেজে l প্রথম দিন থেকেই ছেলে মেয়ে সবার মাঝে তুমি ছিলে খুব পপুলার l হই হই করে ক্লাসটা মাতিয়ে রাখতে l আমিও দেখতাম তোমার কাণ্ড দূর থেকে l  তোমার মনে আছে ,একদিন খুব বৃষ্টি, ক্লাসের পর আমরা কেউ বেরোতে পারছিলাম না ,নানা আড্ডার মধ্যে তুমি বললে,   - আমি না হাত দেখতে পারি l               অনেকেই তোমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো , দেখে দে, দেখে দে l অবশ্যই মেয়েরা l আমি একটু দূরে দাঁড়িয়েছিলাম l তুমি হঠাৎ আমার হাত টা টেনে নিয়ে বললে, আয় আগে তোর টা দেখি l কি বলেছিলে মনে নে...
ভবেশবাবুর ইচ্ছাশক্তি – চন্দ্রকান্তি দত্ত

ভবেশবাবুর ইচ্ছাশক্তি – চন্দ্রকান্তি দত্ত

বিহানবেলায় ৬
ভবেশবাবুর ইচ্ছাশক্তি    চন্দ্রকান্তি দত্ত মুড়ির বাটি হাতে টেলিভিশনের সামনে গুছিয়ে বসেছেন ভবেশবাবু। সাড়ে সাতটা এখনও বাজে নি। তাই টেলিভিশন না চালিয়ে একমনে মুড়ি খাচ্ছেন। সন্ধ্যেবেলা এই সাতটা-সাড়ে সাতটা নাগাদ ভবেশবাবু এক বাটি মুড়ি খান। মুড়ি মানে অবশ্য শুধু মুড়ি নয়, মুড়িমাখা। এর আগে সাতটার মধ্যে তিনজনে একসাথে চা খান। গিন্নী মোটামুটি ছটা দশ-পনেরোতে অফিস থেকে ফিরলে চা বসানো হয়। কোনদিন ভবেশবাবু বসান, কোনদিন মেয়ে। তারপর ধীরে সুস্থে এই মুড়ির আয়োজনটা হয়। ভবেশবাবু চিরকাল মুড়ির ভক্ত। গিন্নী গা ধুয়ে এসে তেল, পিঁয়াজকুচি, লঙ্কাকুচি, সেউভাজা, শুকনো বাদাম ভাজা আর নারকেল থাকলে নারকেল কুচি দিয়ে মুড়ি মাখিয়ে দেন। ভবেশবাবু একটা মাঝারি আকারের বাটিতে মুড়িমাখা নিয়ে বসেন। মুড়ি খাওয়ার সাথে সাথে টেলিভিশনের চ্যানেল পাল্টে পাল্টে পছন্দের খবরের অনুষ্ঠানগুলো দেখেন। এখন আই-পি-এল চলছে। তাই ভবেশবাবুর ...
ভবঘুরে চাঁদ – গীর্বাণী চক্রবর্তী 

ভবঘুরে চাঁদ – গীর্বাণী চক্রবর্তী 

বিহানবেলায় ৬
ভবঘুরে চাঁদ গীর্বাণী চক্রবর্তী   ভবঘুরে চাঁদ ছুটে বেড়ায় একা একা  সপ্তর্ষি মন্ডল, কালপুরুষ কিংবা লুব্ধককে  ছুঁয়ে। আকাশগঙ্গার তীরে আলেয়ার  হাতছানি দেখেছো কী কখনও?এক  মায়াজগত তৈরি হচ্ছে সাদাটে আলোয়। সকাল সন্ধ্যার হিসেব চাঁদমালায় দোল খেয়ে যায়। ক্যাসিওপিয়া দুলে দুলে নেমে  আসতে চায় হাতের মুঠোয়।হাওয়ারা বড্ড বেশি এলোমেলো এখন। গোলাপি কিংবা সফেদ চাঁদ তবুও ছুটে বেড়ায় একাকী প্রত্যেক মায়াসন্ধ্যায়। ------------------------------------------ গীর্বাণী চক্রবর্তী পরিচিতিঃ জলপাইগুড়ি শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা লেখিকা গীর্বাণী চক্রবর্তী পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতাকে। প্রায় তিন দশক ছুঁয়ে আছে তার সাহিত্য সৃজন।ইতিমধ্যে অসংখ্য পত্র পত্রিকায় গীর্বাণীর লেখা প্রকাশ পেয়েছে। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা চার। তার লেখা গ্রন্থগুলি হল, এক ডজন গপ্পো, ভূত বাংলোর আতংক, শ্বেতা তোমার জন্য...
পেঞ্চে মহাশিবরাত্রি – দেব মুখার্জি

পেঞ্চে মহাশিবরাত্রি – দেব মুখার্জি

বিহানবেলায় ৬
পেঞ্চে মহাশিবরাত্রি দেব মুখার্জি গোপাল রাও আর অঞ্জণা বাঈ, এদের সঙ্গে দেখা, তোতলাডোহতে, আঙুল দিয়ে বুড়ো বটগাছটাকে দেখিয়ে কিছু বলছিল গোপাল রাও তার সহধর্মিণীকে। ঘাড় নেড়ে অঞ্জণা বাঈ গড়গড় করে অনেক কথা বলে থামলো। সম্পূর্ণ মারাঠী বুঝতে না পারলেও বুঝলাম, একটা সময় ওদের ঘরবাড়ি ছিল, ঐ বুড়ো বটের সামনে। দোতলা বাড়ি ছিল প্রধানের। ছোট্ট কুঁড়ে,খাপরার চাল মঞ্জু মৌসি, একাই থাকতো, দুটো ছেলেই পরদেশে চলে গেল  কাজে, একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে সে থামে। আমি সামনে তাকাই, এখন এই মুহুর্তে ঘরবাড়ির কোনো চিহ্ন নেই, সব মিশে গেছে ঘন জঙ্গলের আড়ালে। গোপাল রাও বলে, বাবুজী জঙ্গল তো ছিলই, জানোয়ার বাড়তেই আমরা গ্ৰাম ছাড়া, বুঝি পেঞ্চ টাইগার রিজার্ভে পরিবর্তিত হতেই, বনগ্ৰামের মানুষজন পুনর্বাসিত হয়ে এখন জঙ্গলের বাইরে।  তোতলাডোহ, পেঞ্চের জঙ্গলের মাঝের কোনো এক বনগ্ৰাম, যেটা ছিল, এখন আর নেই। সেই বনগ্ৰামের ঘন জঙ্গল, উঁচু নীচু রাস্তা পের...
পুরানো সেই  – সুজয় দত্ত 

পুরানো সেই  – সুজয় দত্ত 

বিহানবেলায় ৬
পুরানো সেই  সুজয় দত্ত  এ জীবনতরী শ্লথ হয়ে আসে, পঞ্চেন্দ্রিয় হয়ে আসে ক্ষীণ, তবু শুনি যেন কার পিছুডাক, থেকে যেতে বলে আরও কিছুদিন।  না বলা কথারা ভীড় করে আসে, স্মৃতির মেঘেরা ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়, আলো আঁধারির খেলা চলে বুকে, লুকোনো বেদনা বৃষ্টি ঝরায়।  যারা এসেছিল, যারা চলে গেছে, রেখে গেছে কিছু ধূসর চিহ্ন, হৃদয়ের টানে বাঁধা পড়ে সেই বাঁধন করেছে হেলায় ছিন্ন,  আজও আছে তারা মনের গহীনে ছায়াছায়া কিছু অনুভূতি হয়ে, চুপিচুপি এসে ডাক দিয়ে যায়, নীরবেই যায় কত কথা কয়ে।  সেই যে কে এক ছিল বাঁশিওয়ালা, প্রতিদিন যেত কি সুর শুনিয়ে  গোধূলিবেলায় মোহনবাঁশিতে কল্পনা জাল প্রাণেতে বুনিয়ে।  তার পিছুপিছু আরও একজন -- ঝুমঝুমি আর রঙিন খেলনা  পিঠের ঝুলিতে ভরা ছোটদের স্বপ্নের ধন, নয় সে ফেলনা।  ফিরবে না তারা, মন জানে তবু কেন যে তাদের পিছু পিছু ধায়?  ছোট ছোট পাওয়া, ছোট ছোট খুশী -- তার পানে আজ...
নিরামিষাশী – সোনালী গুহ

নিরামিষাশী – সোনালী গুহ

বিহানবেলায় ৬
নিরামিষাশী সোনালী গুহ    হইহই করে পঞ্চাশোর্ধ একদল তরুণী সেদিন দেখা করেছিল সাউথ সিটি মলে। ইদানীং সকলে মলে আড্ডা দিতে ভালবাসে।চারিদিকে বিভিন্ন বয়সীদের জম্পেশ আড্ডা,খাওয়া দাওয়া চলে। কেউ কারো দিকে বিশেষ নজর দেয় না। বেশ মুক্ত বাতাবরণে প্রাণখুলে গল্প করতে করতে খাওয়া দাওয়া করার এক উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ এই মলগুলো।     সেদিনের আড্ডার উপলক্ষ ছিল দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা বিনিময়। যে আটজন এসেছিল,তাদের পরিচয় হয়েছিল ফেসবুক থেকে।সেখানে একটা গ্রুপের তারা সকলেই সদস্য। অনেকদিন পর তাদের এই  আড্ডা। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বল ছিল প্রত্যেকেই।    কফি দিয়ে গল্পের শুরু। দাঁড়াও,আগে ওদের আট সখীর পরিচয় করাই তোমাদের সঙ্গে। ওরা তো ইদানীংকালের ফেসবুক পেজ এর বন্ধু। কিন্তু কারো কারো সঙ্গে বেশ গভীর সখ্য। কী যে ভালো লাগে,কেমন একদম অচেনা মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কত কিছু জানা যায়।একেকজন খুবই গুণী।পরিচিতির পরিধি...
নব চতুর্দশপদাবলি – দীপন মিত্র

নব চতুর্দশপদাবলি – দীপন মিত্র

বিহানবেলায় ৬
নব চতুর্দশপদাবলি   দীপন মিত্র   বৃক্ষের গোড়ায় থাকে গোপন ফোকর – পথ, বীথি ঘাসেদের কোলাহল, বৃক্ষের আলস্য চিহ্ন কিছু কিছু শুষ্কপাতা ঝরে, কিছু পাপড়িরা – এই রীতি চিরকালব্যাপী; স্তব্ধ কাল, একাকার, নত, নিচু কবিদের লিখনের নির্জন গুহার মতো স্থান জেনেছি যুগের পর যুগ, তবু পাইনি কোথাও একটি নারীর প্রেম যেরকম সাধনার দান কবিতাও সেরকমই; দেবীকে বলেছি ভাষা দাও   খোদাই করে যে পাওয়া শব্দগুলি যে আমার নয় যে আমাকে ভরে দিলো আলো দিয়ে যে আনন্দময় মধ্যরাতে পুবদিগন্তের আলো ঢুকে ছিল বুকে সম্পূর্ণ আপন করে কে যে এলো লেখনীর মুখে পাহাড়েরই অন্তর্গত জল যবে বুক জুড়ে নামে  দূর-দূরান্তের থেকে আসে লোকে সেই তীর্থ ধামে! ----------------------------------------...
তুমি রবে নীরবে – অজন্তা প্রবাহিতা 

তুমি রবে নীরবে – অজন্তা প্রবাহিতা 

বিহানবেলায় ৬
তুমি রবে নীরবে অজন্তা প্রবাহিতা    (খোলা চিঠি ) ঠিকানা  নীলিমা সান্যাল অমরাবতী আকাশবাড়ি ১৪/৪/২০২৬ প্রিয় নীলিমা, আজ পয়লা  বৈশাখ। মেঘ পিয়নের হাতে  এই চিঠিখানি পাঠালাম তোমার ঠিকানায়। জানি, ও ঠিক খুঁজে নেবে তোমার সেই মেঘের সাদা বাড়ি। শুভ নববর্ষ ।  অনেকদিন কথা হয় না। কাজের চাপে, জগৎ-সংসারের দায় মেলাতে গিয়ে মাঝে মাঝে মাথা তোলার সময় পাই না। রাগ করো না! তুমি তো জানো, আমার এই জীর্ণ কাঁধে কত মানুষের দায়িত্ব। সেই পাহাড়প্রমাণ ভার অস্বীকার করার সাধ্য আমার নেই। মনে পড়ে, সেই যে অনেকটা পথ একসাথে হাঁটব বলে হাতটা ধরেছিলাম? মাঝপথে তুমি হঠাৎ আঙুলগুলো আলগা করে দিলে। আমি একা রয়ে গেলাম এই জনসমুদ্রে। তোমার যাওয়ার পর শুধু এই বাড়িটাই নিস্তব্ধ হয়নি, আমার ভেতরটাও যেন এক গভীর অরণ্যের মতো নির্জন হয়ে গেছে। অনেকেই আসে সহমর্মিতার প্রলেপ দিতে, কিন্তু তারা কি জানে—আমার মনের আলমারির চাবিটা তুমি ত...
দেবী – অঞ্জন নন্দী

দেবী – অঞ্জন নন্দী

বিহানবেলায় ৬
দেবী অঞ্জন নন্দী এয়ার ইন্ডিয়ার এয়ারবাসের চাকা যখন রানওয়ে স্পর্শ করল, ব্যাঙ্গালুরুর আকাশে তখন রাত নেমেছে। বিমানের দরজা খোলার আগেই কিছু অসভ্য যাত্রী ওভারহেড লাগেজ নামিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু করল, ঠিক তখুনি মিলুর কানে এলো অস্ফুট ক্রন্দন,  'বাবা...  বাবাগো....।' দু'সিট সামনে নজরে এলো এক কিশোরীর যন্ত্রণাময় মুখ, এক হাত ধরে আছে পাশের ভদ্রলোকের হাত, আরেকটি হাত বুকের ওপর চেপে বসা। ভদ্রলোক নিশ্চয় তার বাবা, অসহায় ভাবে মেয়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছেন। এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি নিয়ে টোল রোড ধরে বুমাসান্ড্রা এলাকায় NH complex এর পাশে একটা লজে উঠলো মিলু। লজগুলো মধ্যবিত্তের প্রবাসী সংসার বলা যায়। পরদিন সকাল থেকে কার্ডিয়াক হাসপাতালে ছোটাছুটি । কতো যে পরীক্ষা-রক্ত,ইসিজি,ইকো। সন্ধ্যায় কেবিনে ভর্তি হলো। পরের সকালে ক্যাথ ল্যাব ১ এ এনজিওগ্রাম। ছোট্টখাট্টো নার্সগুলো মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে,বেশকটা সুঁই এর খোঁচা দিলো। এক ত...
ছাই – আশিস দাস

ছাই – আশিস দাস

বিহানবেলায় ৬
ছাই   আশিস দাস   " I will show you fear in  a handful of dust"-- T.S.Eliot       একমুঠো ধুলো নাও, এই নাও মুঠোভর্তি ছাই.. এর থেকে বেশী কিছু  নয়, এতো কিছু লাফঝাঁপ, এতো সব বৈভব -বিলাস আসলে তো সবই ওই একমুঠো ধুলো :  মনে হচ্ছে ধরে আছো, আসলে কখন যে মুঠো থেকে খসে গেছে বালি..     জানতে পারোনি,        সময়ের হাত ধরে  সাগরের পাড়ে শুধু  জমা হয় জীবনের  সাধ, সব স্বপ্ন-- বালির নির্মাণ ;  এই তো জীবন ...    তবু ভয়,শুধু ভয় এই বুঝি ভেঙ্গে যায়  সব স্বপ্ন চোখের পলকে..       একমুঠো ছাই নাও ভয় নাও অন্তর ভরে...       জীবনের অন্য পাড়ে জমা হয় ছাই বাকি সব অলীক কল্পনা ; ----------------------------------------- আশিস দাস পরিচিতিঃ জন্ম উত্তর চব্বিশ পরগণার ভাটপাড়ায়,শৈশব থেকেই কয়লাখনির শহর আসানসোলে বাস। পড়াশোনা আসানসোল, বর্...
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!