Shadow

Author: Kulayefera

চতুর ভোম্বল – ভোলা  – ভারতী ভট্টাচার্যী

চতুর ভোম্বল – ভোলা  – ভারতী ভট্টাচার্যী

বিহানবেলায় ৬
চতুর ভোম্বল - ভোলা       ভারতী ভট্টাচার্যী  “সদা সবুজ সার্কাস” এর মালিকের ঘরের বাইরে  ভোলা কে দেখে অবাক হয়ে ভোম্বল জিজ্ঞেস করলো,এখানে তুই কি করছিস ! এদিকে আয় ! আমি তোকে কতক্ষণ ধরে গরু খোঁজা খুঁজেই যাচ্ছি ! কোথাও না পেয়ে চিন্তায় পড়ে গেছিলাম ! কি যে করিস না ভোলা! ভোলা অবাক হয়ে ভোম্বল এর দিকে তাকিয়ে বললো,তাই নাকি গো ! ইসস্ রাম  আমি তো বুঝতে পারিনি | নাহলে তোমার কাছে চলে যেতাম | এখানে শুধু শুধু বেকার না বসে তোমার কাছে গিয়ে গল্প করতে  পারতাম | দেখো না সুকুমার দা কখন থেকে আমায় ওর ঘরের সামনে বসিয়ে রেখে কোথায় চলে গেলো | বললো ওর ঘর টা পাহারা দিতে | ভোম্বল ভোলার কথা শুনে কোনো উত্তর না দিয়ে ওকে পেছনে  রেখে কোমর টা  বেঁকিয়ে খুব জোরে বায়ু নির্গত করলো ! এতে ভোলা খুব রাগ করে উঠে দাঁড়িয়ে বললো - এটা কি করলে তুমি ভোম্বল দা ! এইভাবে তুমি আমায় অপমান করলে? তুমি আমার সাথে এইরকম করতে পারলে ! ভোম্বল একদম স্বাভ...
কুণ্ডলিনী জাগরণ – তীর্থংকর সান্যাল

কুণ্ডলিনী জাগরণ – তীর্থংকর সান্যাল

বিহানবেলায় ৬
কুণ্ডলিনী জাগরণ   তীর্থংকর সান্যাল                সুস্থ শরীর, শুদ্ধ মন, সময় অবতীর্ণ, কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণ,মূলাধারে সুপ্ত শক্তি, কুণ্ডলিনী নাম,                                                         সুষুম্না পথে ওঠে সে, চেতনার বান, পুরুষ ও প্রকৃতির মহামিলন সহস্রহার চক্রে, আত্মার বিস্তার, অবিনশ্বর পথে। মোহ, ভয় ছেড়ে, নির্ভরতার জয়যাত্রা, বৈরাগ্য - বিরাগ বোধে উন্মীলিত চেতনা, সত্যের আলোয় প্রজ্জ্বলিত সাত্ত্বিক জীবন, কুণ্ডলিনী জাগরণ, পূর্ণতার সাধন। সীমাহীন প্রেমে ভরে ওঠে হৃদয়, অন্তরাত্মার আলোয় জীবন অমৃতময়, শিব - শক্তির মিলনে চিদানন্দ রূপের ছটা, কুণ্ডলিনী জাগরণ, অনন্য - অবিনশ্বর আত্মা। ------------------------------------------ তীর্থংকর সান্যাল : ছাত্র - রামকৃষ্ণ মিশন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: এম.কম, এম এ (সাইকোলজি), এ সি এম এ (কস্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট) ও এ সি এস (কোম...
অসংলগ্ন কাব্যকথারা – রাজর্ষি দত্ত

অসংলগ্ন কাব্যকথারা – রাজর্ষি দত্ত

বিহানবেলায় ৬
অসংলগ্ন কাব্যকথারা   রাজর্ষি দত্ত জমা ভাবনাগুলি ঘুরপাক খেলে- বেদুইন হই সামুদ্রিক বালুকাবেলায়। তেলে-জলে মিশ না খেলেও চলত; তবু দ্রবীভূত বলেই নতুন অনুভূতির ককটেল ক্রমাগত মোচড়ায়-কাঁদায়-চালায়। দাওয়ায় ফিরে আসে ইন্দির ঠাকরুণের মত! অথচ আমি বিশ্বনাথের কানা গলিতে অথবা কুয়াশায় ঠোকর খাই কুহেলি গানে। উটকো ঝামেলার মতো বহুরূপী সাজে ওরাও যে কেন মুখোশ পরে থাকে? যখন ক্লান্ত আমি বাইরের মুখোশ দেখে দেখে! তুমি বিচ্ছিরি জেনেও অসভ্যতা আসে না- প্রধানমূল খুঁজি ভাবনার আগুনে পুড়ে। পোড়া শরীর একদিন অচেনা মনে হয় স্বজনেরও। ------------------------------------------ রাজর্ষি দত্ত পরিচিতি: শিলিগুড়িতে জন্ম ও উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা। কর্মসূত্রে দীর্ঘদিন চা-শিল্পের সাথে যুক্ত। পরিবেশ ও মানুষের প্রতি টান তার লেখার প্রেরণা। ভালবাসেন বই পড়তে,গান শুনত...
গল্পতরু – দেবাশিস দণ্ড 

গল্পতরু – দেবাশিস দণ্ড 

বিহানবেলায় ৬
গল্পতরু দেবাশিস দণ্ড     আলতামাসি গল্পতরু আঁচলের খুঁটে চাবির গোছার মতো ঝমঝম করে সাতবাড়ির গল্প। ঘোষবাড়ির বড় গিন্নী আলতামাসির নাম দিয়েছে মাসিক পত্রিকা। ঘোষবাড়ির বড় গিন্নী সুনেত্রা সিঁড়িতে চায়ের কাপ নিয়ে বসে গল্প শোনে আলতামাসির। না শুনলেই মুখ ভার মাসি থমথমে গলায় বলবে- চ্যইললম কাল লে আর কাজে আইসব নাঁয় লক খুঁজে লাও গা। রাত পোহালেই অভিমান মরে যায় একান্নবর্তী হাঁড়ির কালির দাগ তুলতে তুলতে পরদিনই বিড়বিড় করে- সেই চৈতমাসে নাটার বউ বাউটি দুট রায়খে পালাইং গেল, ভাদ্রমাস পইড়ল-- অখন তক ঘুইরল নাঁয়। যন চুলায় ঘ্যুরে মইরছিস-- মর ন তুই বুঝবি, তর ভাতার বুঝবে তর পিরিতের লক ব্যুইঝবে--- আমার হঁয়েছে যত জ্বালা। জ্বালা জুড়োতেও সময় লাগে না আলতামাসির ঝুপ করে চলে যায় আরেকটা গল্পে-- আমার সোয়ামীট মদ ছাঁয়ড়ে দিয়েছে, জান বউদি শ্রাবণমাসে মনসাতলায় প...
গন্তব্য – রথীন পার্থ মণ্ডল

গন্তব্য – রথীন পার্থ মণ্ডল

বিহানবেলায় ৬
গন্তব্য রথীন পার্থ মণ্ডল যাত্রীদের ভিড়ে গমগম করছে স্টেশন চত্বর   ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকলো   যাত্রীদের ওঠানামা চললো এমনকি হকারদেরও   ড্রাইভার সাহেব হর্ন দিলেন   গার্ড সাহেব ছাড়ার জন্য সিগন্যাল দিলেন   ড্রাইভার সাহেব আবার হর্ন দিলেন   ট্রেন স্টেশন ছেড়ে বেড়িয়ে গেল তার গন্তব্যের উদ্দেশ্যে   গমগম করা স্টেশনটি  এখন শূন্যতার সমুদ্রে ডুবে খাঁ খাঁ করছে   দূরে চলে যাচ্ছে ট্রেনটি তা দেখে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা আমিটি  সময়ের পাকেচক্রে গুলিয়ে ফেলেছি কোথায় আমার গন্তব্য আর কোথায় তোমার।। ----------------------------------------------- সাফল্য রথীন পার্থ মণ্ডল   প্রতিদিন, প্রতি মুহুর্তে কঠোর পরিশ্রম চলে ঘামের বিন্দুগুলো ঝরে পড়ে মাটির বুকে   আসলে মাটি...
“এই রাত তোমার আমার ” – সুরজিত সরখেল

“এই রাত তোমার আমার ” – সুরজিত সরখেল

বিহানবেলায় ৬
" এই রাত তোমার আমার " সুরজিত সরখেল           হঠাৎ একটা চাপা অস্বস্তিতে নীলের ঘুমটা ভেঙে গেল। একটা বিশ্রী স্বপ্ন দেখতে দেখতে আচমকা, ঘুমন্ত অবস্থায় হাতড়ে হাতড়ে মোবাইলটা খুলে সময়টা দেখল রাত প্রায় তিনটে বাজে! একবার ঘুম ভাঙলে ঘুম আসতেই চায় না। হাত বাড়িয়ে জলের বোতল থেকে ঢক ঢক করে খানিকটা জল খেয়ে, বাথরুমে বেসিন থেকে ঘাড়ে, মুখে জল দিয়ে বিছানার উপর বসে থাকলো মিনিট খানেক। বাঁকুড়ার এই প্রত্যন্ত এলাকায় অনেক ছোট থাকতে মা-বাবার সঙ্গে বড় মাসির বাড়িতে এসেছিল। মাসির কাছে শুনেছিল ওঁর শ্বশুরমশাই , মানে মেসোর বাবা জমিদার বাবুর রক্তের সম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে, এ বিশাল কয়েক বিঘার উপর বাড়িটার সামান্য অংশটুকুর ভাগ পেয়েছিলেন। শরিকী  সম্পত্তির যখন ভাগ বাটোয়ারা হয় তখন দেশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য অস্ত যেতে বসেছে। পরবর্তীকালে মেসো তাদের ভাগের এই সামান্য অংশটুকুর সংস্কার করতে পেরেছিলেন। দুটো ঘর কিন্...
অশ্বমেধের ঘোড়া – দীপান্বিতা দত্ত

অশ্বমেধের ঘোড়া – দীপান্বিতা দত্ত

বিহানবেলায় ৬
অশ্বমেধের ঘোড়া   দীপান্বিতা দত্ত মাঝরাতে দাপিয়ে বেড়ায় ক্রিকেটের ময়দান বাউন্ডুলে লক্ষীছাড়া ভারতীয় নারীরা দুর্বার বেগে ছুটছে , যেন অশ্বমেধের ঘোড়া ।  ঝুলন, মিতালি, হরমন প্রীত , দীপ্তি, রিচা উইকেট, বাউন্ডারি হাতের তালু বন্দি ক্যাচ মাথা উঁচু করে জিতে নিল বিশ্বকাপের ম্যাচ  । জন্মালে বিষ ঢালে পণের দায়ে পুড়িয়ে মারে মেয়ের জন্য পুতুল আর ছেলের জন্য ক্রিকেট ব্যাট-- ক্লান্তি বিহীন ছক্কা ঝড়ে তুলে দিল রান রেট    । সংবাদের শিরোনামে নির্ভয়া , অভয়া  বিচারের পথ চেয়ে যাদের আজ সব ফাঁকা মেধার মৃত্যু নেই ঘুরে যায় ভাগ্যের চাকা   । কুয়াশা মোড়া চা-বাগানের ছোট্ট শহর থেকে ছুটে আসা বাঘিনী কতটা সাহসিনী দেখিয়ে দিল শিলিগুড়ির বাইশের বিজয়িনী  । নিষেধের বেড়া ভেঙে ইচ্ছেরা কুঁড়ি মেলে আমরা নারী অবহেলায় অপমানে জ্বলে উঠি আসলে তো প্রতিদিন ভষ্ম থেকে জেগে উঠি  ।। ----...
অলিভার – মণি ফকির

অলিভার – মণি ফকির

বিহানবেলায় ৬
অলিভার মণি ফকির আজ আরেকটা পার্টি এসেছে। চট করে রেজিস্টার টা দেখে নিল গদাই। পরক্ষণেই মন টা খারাপ হয়ে গেল । না আজও হলনা। আদৌ কি কখনো হবে ?  গেট খোলা। দারোয়ান কোথাও গায়েব। এই সুযোগে টুক করে বেড়িয়ে পড়ল সে। কয়েক পা এগোলেই নদী। কি একটা বেশ নাম? অত ছাই মনেও নেই। ও একেকদিন ইচ্ছে মত একটা নতুন নাম দিয়ে দেয়। আজ নদীর নাম রাবেয়া। ওর দিদির নাম। বড্ড ভালোবাসত। সে বার প্রচণ্ড ঝড় এল, তারপর আর...যাক গে।  আম গাছ তলায় টুক করে বসে পড়ল সে। বর্ষার সময়; হাবু দা পই পই করে এদিকটায় আসতে মানা করেছে। যত সাপ খোপের আড্ডা। আর তাছাড়া নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। ওর অবশ্য সে ভয় নেই। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নেয় পার্টি বেরোলো কিনা। গেট বন্ধ হওয়ার আগেই ঢুকতে হবে।  দূর থেকে আজানের শব্দ ভেসে আসছে। আজ ঈদ। মনটা খারাপ হয়ে গেল। ওর ভালো নাম আলমগীর। কাউকে আর বলেনা। কায়দা করে গদাই করে নিয়েছে। আসলে কেউ কাফের ঘরে তুলতে চায়না তো।  বর্ষার সময় ...
অন্তর ও বাহির – অমরেন্দ্র কালাপাহাড়

অন্তর ও বাহির – অমরেন্দ্র কালাপাহাড়

বিহানবেলায় ৬
অন্তর ও বাহির অমরেন্দ্র কালাপাহাড় যাদের জন্য নিজে না খেয়ে দেয়ে ভবিষ্যতের জন্য সযত্নে গুছিয়ে রেখে তিল তিল করে তিলোত্তমা করা তারা যদি বাস্তব না বোঝে  তবে সে কেন  এমন কৃচ্ছসাধন করবে ! ভাবতে থাকে জগমোহন,না অনেক হয়েছে আর না ! পাড়ায় বেরোলে কান পাতা দায়। তার নাম নাকি নিলে তাদের সারাদিনটা বৃথা যাবে! জগমোহন ভাবে যারা ওই উল্টোপাল্টা বলছে নানান গল্প বানিয়ে আসলে ওরা হলো এক একটা চার্বাকের শিষ্য। খেয়ে-দেয়ে ফুর্তি করে জীবনটা কাটিয়ে যায়। আরে বুঝলি না এমন একটা দিন অনেক সময় আসে যখন সত্যি কোন কিছু করার উপায় থাকে না তখন ওই গচ্ছিত ধন তো স্বর্গের চাঁদ আনে, তাই কিনা! একথা বলেছিল সে সৌদামিনীকে।  জগমোহন বারবার বলে ওইসব হাভাতেদের কথা বলো না, তার প্রচন্ড দুর্দিনে কি ওরা তোমাকে খাওয়াবে না পরাবে? তবে অত বড়ো বড়ো কথা বলা কেন ? কিপ্টেমি করেছি বেশ করেছি। আমি তো কারো পাকা ধানে মই দিইনি ? আমি আমার আয়ের...
আবেগের ভূত – অঙ্কন দণ্ড

আবেগের ভূত – অঙ্কন দণ্ড

বিহানবেলায় ৬
আবেগের ভূত   অঙ্কন দণ্ড আবেগের জলাশয় স্রোতহীন হয়ে পড়ে আছে।  খুব জোরে ঢিল ছুঁড়লেও  তরঙ্গ খেলে না তাতে।  দিনে দিনে বাড়ছে শ্যাওলার আস্তানা, পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে রইলো একা।  একদিন সেটাকে বুজিয়ে   তৈরি হলো এক বহুতল বাড়ি।  সেই বাড়ির এক ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে  কফির কাপে চুমুক দিয়ে একজন হারিয়ে যায় জলাশয়ের আবেগে ভাসা দিনগুলিতে।  হয়তো আবেগের শ্মশানে ভূতেরা আজও খেলা করে। ---------------------------------------------------------- অঙ্কন দণ্ড, জন্ম ২০০৩ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারী। বাসস্থান পুরুলিয়া জেলার আদ্রায়। মাতার নাম বনশ্রী দণ্ড, পিতার নাম স্নেহাশিস দণ্ড। অঙ্কনের লেখালেখির পথ চলা কবিতা দিয়ে। আনন্দবাজার পত্রিকার জেলার পাতা " ছোটদের পাতা " শীর্ষক - এ তার স্বরচিত কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হত। স্থানীয় পত্রিকা " ঊষশী" তেও স্থান পেয়েছে তার কবিতা। এছাড়া নান...
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!