
ছবি না-ছবি
অনুপ ঘোষাল
আমাদের বড় হয়ে ওঠার কোনও ছবি নেই।
প্রথম স্কুলে যাওয়ার ছবি নেই কিন্তু আমার আঁকা সব ছবিতে স্কুল আছে।
নাড়ু স্যারের সাথে কোনও ছবি নেই কিন্তু জীবনের প্রতিটি সিঁড়ি–ভাঙা অঙ্কে তিনি আছেন।
এগারো বছর যে রিকশা কাকু স্কুলে পৌঁছে দিয়েছে তাঁর সাথে আমার একটাও ছবি নেই অথচ আমার প্রতিটি পৌঁছে যাওয়ায় রিকশা কাকু আছে।
বাবার কাঁধে বসে চাঁদ দেখতে গেছি হাইস্কুলের মাঠে,শিয়ালদহ থেকে ব্রিগেড সেও বহুবার ওভাবেই… কোনও ছবি নেই অথচ আমার প্রতিটি দেখায় বাবা আছে।
সংখ্যা পেরিয়ে যাওয়া লুচি–আলুরদম–পায়েস দিনের ছবি নেই বন্ধুদের সাথে কিন্তু আমার প্রতিটি পেরিয়ে যাওয়ায় বন্ধুরা আছে।
প্রথম প্রেমে পড়া অষ্টমী, প্রথম থিয়েটার, আবৃত্তির পুরস্কার, ইষ্টবেঙ্গল–মোহনবাগান… এরকম কত কত প্রথম কিছুর ছবি নেই। দ্বিতীয়,তৃতীয়, চতুর্থ…কোনওটারই অবশ্য নেই কিন্তু প্রতিটি ছবির আমার মধ্যে বেঁচে থাকা আছে, নড়াচড়া আছে।
মায়ের সাথে ছবি খুব কম কিন্তু কচুর লতিতে, দুধপুলিতে, কচ্ছপের ডিম আর কাঁকড়ার টকে, আমার হার আর জিতের প্রতিটা ছবিতে মা রোদ্দুরের মতো আছে।
সুচরিতা নামের কাউকে আমি চিনি না অথচ তাঁর আলো–ছবি আমার তুমুল বৃষ্টিতে।
পিঠ ছুঁয়ে যাওয়া লক্ষ্যভ্রষ্ট ছুঁড়ির মালিককে আমি দেখিনি তবু তাঁর ছবি তোলা আছে আমার অন্ধকার কুঠুরিতে। সব বুঝে নেব বলেই।
ছবি থেকেও থাকে না আবার না–থেকেও থেকে যায়।
থাকা আর না–থাকার এই খেলায় শেষমেশ পড়ে থাকে আলো।
এক অপার বিস্ময়!
——————————————————————

অনুপ ঘোষাল পরিচিতিঃ
পঃ বঙ্গ সরকারের একজন সাধারণ কর্মচারী।স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, এর মাঝেই লেখালেখির জগতে আসা। পড়তে ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন চারপাশের মানুষ আর প্রকৃতি। কবিতার প্রতি ভালোবাসা আছে, তবে বিশ্বাস করেন, কবিতা বড্ড ভিতরের কথা তার অত প্রকাশের দায় বা দাবী কোনোটাই থাকা উচিত নয়।
