
PC News18 Bengali
তিন বছর পরে
রাজু সেনগুপ্ত
টেস্টিকুলার গার্ডের ব্যবহার প্রায় ক্রিকেট খেলার জন্মলগ্ন থেকে। তার বহু বছর পরে সম্ভবত ব্রিটিশ ক্রিকেটার ডেনিস অ্যামিস বুঝতে পারেন যে মাথাটাও সমান ইম্পর্ট্যান্ট, মাথাটারও সুরক্ষার প্রয়োজন। ব্যবহৃত হলো ক্রিকেট খেলায় হেলমেট। ক্রিকেট খেলা অনেকটা ভয়ডরহীন হলো।
আমার জীবনে ঘটল উলটো ঘটনা। চাকরি পাবার পরে আমি বছর দুই ভয়ডরহীন জীবন কাটালাম। যেখানে খুশি যাচ্ছি, রাতবিরেতে বাড়ি ফিরছি। নিজেই চমকে উঠি নিজের এই অবাধ স্বাধীনতায়। হিন্দি সিনেমা দেখে দেখে নিজেকে রোমান্টিক ভাবি। অবশেষে বিয়ে করে ফেলি, আর শুরু হলো আমার ভয়ডরযুক্ত জীবন।
প্রথম হোঁচট খাই যখন বাস্তব জীবনে বুঝলাম বিয়ের পরে জীবনে শুধু রোমান্স থাকে না, হরর্-ও থাকে।
বিয়ের পর বছর দুই ঠিকঠাক সব চলছিল, কিন্তু তারপর থেকে আস্তে আস্তে তাল কাটতে শুরু করল। প্রথম প্রথম কথা বলা বন্ধ, তারপরে ভাববাচ্যে কথা বলা, রাতে একই খাটে দুজনে দুদিকে মুখ ফিরিয়ে ‘দ’ হয়ে শুয়ে ঘুমানো।
এখন বুঝি জীবনে ১৫% রোমান্টিকতা, ৬৫% সমঝোতা আর ২০% ভয়। ১৫% ক্যাটাগরির আইটেমের এক্সপায়ারি ডেট অনেকদিন আগে শেষ হয়ে গেছে আমার। বাকি পড়ে আছে ৬৫% আর ২০%!
দেবা আমাদের বিয়ের ছবিতে ঘটের ওপরে হাতে হাত রাখা দেখে বলেছিল, “এই ছবিটার মানে কী জানিস? বক্সিং রিংয়ে যেমন দুই মুষ্টিযোদ্ধা ফাইট করার আগে সৌজন্যমূলক করমর্দন করে, এটাও ঠিক তাই। সাংসারিক জীবনে চোরা-গোপ্তা ফাইট করার আগে সৌজন্য দেখাতে সবার সামনে হাতে হাত রেখে ছবি তোলা।”
আমার আরেক বন্ধু সমু পাহাড়ে চড়ছে, বাঞ্জি জাম্প করছে, প্যারাগ্লাইডিং করছে, দেখে মনে হয় একদম ভয়ডরহীন। কিন্তু ফোনে বউয়ের মিসড কল দেখলেই সব বীরত্ব ঘুচে যায়।
মন চঞ্চল হলেই আমি কালিদাকে ফোন করি, জিজ্ঞেস করি সব বিবাহিত পুরুষেরা বউকে চমকায় কেন? আর কেন বউয়ের কথা বলে?
কালিদা বলে, “বাত উনকি হোতি হ্যায়, জিসমে কোই বাত হ্যায়! বউদের ভেতর সেই বাত থাকে বলেই বউদের নিয়ে এত কথা।”
আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে—
কালিদা বলে, “থাম! তুই কী নিয়েছিস? সিদ্ধান্ত? তোর সিদ্ধান্ত তো ওই কাঠবিড়ালির রাস্তা পার হবার মতো! তা কী সিদ্ধান্ত নিলি?”
“আমি সংসারের কোনো ব্যাপারে থাকব না আর।”
“তা তোর এই সাংসারিক বৈরাগ্যের কারণটা কী?”
“আর বলো কেন? বউয়ের এই দাদাগিরি আর সহ্য হচ্ছে না। এটা খেয়ো না, ওটা করো না, সব সময় শুধু শাসন। সেদিন বন্ধুরা এসেছিল রাতে একটু ড্রিঙ্ক করে রাতের ওষুধ খেতে ভুলে গেছি বলে বাড়িতে তুলকালাম। আমি হুইস্কি খেলে মদ গেলা হয়, অথচ নিজের ভাই যখন খায় তখন সেটা ড্রিঙ্কস!”
“কত বছর বিয়ে হলো?”
“ভুলে গেছি।”
————————————————-

রাজু সেনগুপ্ত
সুনীল গাঙ্গুলী শক্তি চট্টোপাধ্যায়,সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বই পড়া, কিশোর ,মান্না ,সন্ধ্যা, হেমন্তর লংপ্লে রেকর্ডে গান শুনে ও টুকে পাস করে দিব্য আছি।করোনাতে যদি ২০২০ সালে বেঁচে যাই, তবে ইচ্ছা মৃত্যু……কলির কেষ্ট হবার ইচ্ছে ছিলো, সময়ান্তরে কলির ভীষ্ম হয়ে বাঁচবো ……।।
