ভাঙা ডানার উড়ান
কল্যাণী মিত্র ঘোষ
লোডশেডিং হলেই ছোট্ট টুকাই মায়ের কোল ঘেঁষে বসে গল্প শুনতে চায়। মায়ের তখন রাজ্যের কাজ। যৌথ পরিবারে রাতে সকলে রুটি খাবেন তার ভার মেজ বৌমার ওপর ন্যস্ত। তিন ভাইয়ের সংসার, মাথার ওপর শাশুড়ি মা, শ্বশুরমশাই ছোট ছেলের বিয়ের তিন বছর পর মারা গেছেন। মেজ বউ মঞ্জুলা এ বাড়িতে এসেছে সাত বছর হলো, টুকাই এখন পাঁচ বছরের। স্বামী শেখর একটি বেসরকারি অফিসে অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে কাজ করে। নদীয়া জেলার একটি ছোট্ট শহরে মঞ্জুলার শ্বশুরমশাই এই দোতলা বাড়িটি করেছিলেন অবসর গ্রহণের পর। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ইটের পর ইট বসানোর তদারকি করেছেন বলেই শাশুড়ি মায়ের মুখে শুনেছে সে। দীর্ঘকায় পুরুষ ছিলেন তিনি আর অসম্ভব পরিশ্রমী।
এই পরিবারটি এখনও সাবেকি কিছু নিয়ম মেনে চলে, আধুনিকতার কোনো ছোঁয়া তেমন ভাবে এসে পড়েনি এখানে। হয়তো বা সচেতন ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। মঞ্জুলা এসেছে অত্যন্ত প্রগতিশীল একটি পরিবার থেকে এবং তার বেড়ে ওঠা মুম্বাইতে। তার বাবা একটি বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কম্পানির সেলস বিভাগের অধিকর্তা ছিলেন। তিনি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তো যেতেনই দেশের বাইরেও নানা কনফারেন্স লেগেই থাকত। এক আধবার বাবা তাদের নিয়েও গিয়েছেন অফিস থেকে দু তিন দিনের বাড়তি ছুটি জোগাড় করে। হোটেলের ভাড়া, খাওয়া দাওয়ার খরচ কম্পানি বহন করত এবং তার ওপর দৈনিক কিছু ভাতাও বরাদ্দ থাকত ওনার জন্য, শুধু প্লেন ভাড়া জোগাড় করতে পারলেই একটা সুন্দর পারিবারিক ভ্রমণ হয়ে যেত। সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা এখনও মঞ্জুলার মনে টাটকা, সে তখন ক্লাস নাইনে পড়ত। ওই দেশ দেখে তার মনে সাধ জেগেছিল ওই দেশেই পড়াশুনো করবে আর তারপর চাকরি নিয়ে ওখানেই পাকাপাকি ভাবে থেকে যাবে। পড়াশুনোয় বড্ড ভালো ছিল সে। বাবা, মেয়ের মনের কথা জানতে পেরে মুচকি হেসেছিলেন এবং একটু একটু করে ওর শিক্ষা বাবদ সঞ্চয় করতে শুরু করেছিলেন। আসলে বাবারা চাইলে মেয়েদের সব স্বপ্ন পূরণ হয়।
এরপর অদ্ভুত ভাবে ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল। মঞ্জুলার বাবা প্রিয়নাথ বাবু এই সেলস টার্গেট মিট করার অসম্ভব চাপে ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়তে লাগলেন, শেষে একদিন তিনি অফিসে যাওয়ার সময় গাড়িতে ঢলে পড়েন। ড্রাইভার সঙ্গে সঙ্গে কাছের হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মঞ্জুলা তখন কলেজে সদ্য ঢুকেছে, ভাই সুপ্রিয় ক্লাস এইট। চুরমার হয়ে গেল এক নিশ্চিন্ত নিরাপদ পৃথিবী। মুম্বাইতে দুই সন্তানকে নিয়ে অকূল সাগরে ভাসলেন শান্তি দেবী, নিজেকে বারংবার দোষারোপ করতে লাগলেন কেন অর্থনৈতিক বিষয়ের খুঁটিনাটি গুলো স্বামীর থেকে জেনে নেন নি। মুম্বাইয়ের কম্পানির ভাড়া দেওয়া ফ্ল্যাট ছাড়তে হলো কারণ সেখানে সব পাওয়া গেলেও এক চিলতে মাথা গোঁজার আশ্রয় পেতে গেলে এক বিশাল অংকের টাকা মজুত রাখতে হয়, যেটা তাঁর সাধ্যের বাইরে। কম্পানি তাঁদের একমাস রেখে প্রিয়নাথ বাবুর সমস্ত বকেয়া প্রাপ্য মিটিয়ে দিল। মেয়েদের অগতির গতি সেই পিত্রালয়। শান্তি দেবীর ছোড়দা সেই শ্রাদ্ধের সময় এসেছিলেন তারপর আবার একমাস পর এলেন বোনেদের নিয়ে যেতে। এর মধ্যে শান্তি দেবী প্রচুর আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে দিলেন। যৎসামান্য কিছু নিয়ে রওনা দিলেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের উদ্দেশ্যে। কিশোরী মঞ্জুলার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
মঞ্জুলার মামার বাড়ি কৃষ্ণনগরে, স্বচ্ছল পরিবার কিন্তু তিনজনের ভার নিতে মামীদের মুখ ভার হলো বৈকি। কোথায় মুম্বাইয়ের বহুতল আর কোথায় কৃষ্ণনগরের এক ছোট্ট পাড়ায় একতলা বাড়ির সব থেকে ছোট একটা ঘরে তিনজনের ঠাঁই। টাকাপয়সা যা আছে তার দেখভাল ওই মামারাই করতে লাগলেন কিন্তু সকলের মুখে একটাই কথা, এই টাকার অর্ধেকটাই বেরিয়ে যাবে মঞ্জুলাকে পার করতে। উঠে পড়ে লাগলেন সকলে আর খুব তাড়াতাড়ি চলে এলো এই সম্বন্ধটি। সন্ধেবেলা বাড়ি সুদ্ধ লোকের রুটির আটা মাখতে মাখতে এই সব কথাই ভাবেন মঞ্জুলা দেবী! ঈশ্বরের মনে যদি এই ছিল তাহলে অমন এক সুন্দর জীবনের স্বাদ কেন দিলেন? কেনই বা স্বপ্ন দেখালেন! এক ডানা ভাঙা পাখির মতো দিন কাটে তাঁর, যে জীবন তিনি ফেলে এসেছেন তার গল্প এ বাড়ির কাউকে বললেও তারা বুঝতে পারবে না। বড় বৌ ক্লাস এইট অবধি পড়েছেন আর ছোটটি মাধ্যমিক পাশ করেই ছোট দেওরের সঙ্গে প্রেম করে নিজের বাড়ির অমতে রেজিস্ট্রি করে নেয়। তখন এই মঞ্জুলাকেই হাল ধরতে হয়। মঞ্জুলার মুখের গড়ন ডিম্বাকৃতি, কপাল ছোট আর তাতে এসে পড়ে ছোট ছোট কোঁকড়ানো চুল, কী যে অপূর্ব লাগে তখন। ওর মুখে একটা আভা আছে, শিক্ষার, আভিজাত্যের, সকলেই আপনা থেকে তাকে সমীহ করে। শ্বশুর বাড়ির যে কোনো সমস্যায় তার মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেবারে শ্বশুরমশাই কে রাজি করানোর ভার মঞ্জুলা নিজের কাঁধে তুলে নেয়। তার একান্ত প্রচেষ্টাতেই পরিবার ও প্রতিবেশী কয়েকজন কে নিয়ে একটা ছোট্ট ঘরোয়া অনুষ্ঠান করে ছোট বউকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।সেই থেকে ছোট বউ তার ন্যাওটা হয়ে পড়ে। স্বামী শেখর স্ত্রীকে ভালবাসলেও তার মনের খোঁজ পায়না। এ কেমন মেয়ে যার চোখ দুটো সদাই স্বপ্নে বিভোর, মনে বুঝি কোনো ব্যথা লুকিয়ে আছে, কারোর সঙ্গে প্রেম ট্রেম ছিল নাকি! ভয়ে সে কথা শেখর জিজ্ঞেস করেনা মঞ্জুলাকে। অতীত ঘেঁটে অন্ধকার তুলে এনে কী লাভ, তার চেয়ে এই যে মানুষটা তার কাছে আছে, তাকে খুশি করার আপ্রাণ চেষ্টা করে কিন্তু মনের নাগাল পেলে তবে না! সে যেন কোনো এক দূরের গ্রহের বাসিন্দা।
সেদিন বিকেল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি। অফিস থেকে ফেরার পথে বাড়ির সকলের জন্য মুড়ি তেলেভাজা নিয়ে ফিরতে ফিরতে প্রায় সাড়ে সাতটা বেজে গেল শেখরের। গলির মোড়টায় পা রাখতেই সোনায় সোহাগা, ঝুপ করে লোডশেডিং হয়ে গেল। তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে বাড়ি ঢুকে অভ্যস্ত স্বরে মঞ্জুলা কে ডাকতে গিয়ে থমকে দাঁড়াল শেখর। সবে লোডশেডিং হয়েছে এখনও ইমারজেন্সি লাইট গুলো খুঁজে পায়নি বোধহয় তাই একটা মোমবাতি নিয়ে বারান্দার এক কোণে একটু ঝুঁকে টিউব লাইট টা বের করছে মঞ্জুলা আর কী অপরূপই না লাগছে ওকে। বড় বড় চোখের পাতার ছায়া শ্যামলা গালে, পিঠের ওপর একটা বিনুনি, নাকে এক কুচি হিরের ঝলক, এই তো তার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যে। ইচ্ছে করছিল ছুট্টে গিয়ে জড়িয়ে ধরে। অনেক কষ্টে নিজেকে সামলাল। পাশের ঘরে বুল্টু বিছানায় বসে খেলছে সামনে একটা টর্চ রাখা। ছেলেকে কোলে তুলে নেয় শেখর। বুল্টু বাবাকে আদর করেই বকবক করতে শুরু করে দেয়, “ বাবা জানো মা না আজ একটা রূপকথার দেশের গল্প বলছিল, সেখানে নাকি সবাই খুব কথা শুনে চলে, রাস্তায় নোংরা ফেলা যায় না, কেউ চেঁচামেচি করে না আর অনেক সুন্দর চিড়িয়াখানা আর প্রজাপতির বাগান আছে। সিংহ থেকেই নাকি নাম সিঙ্গাপুর। বাবা আমিও যাব সেখানে, বাবা ও বাবা …”
মঞ্জুলা এত সব জানল কী করে, ও কী ওখানে গেছিল কখনো? কই বলেনি তো! হঠাৎ করে তার মনে পড়ল আজই সিঙ্গাপুরের নামটা কোথায় যেন দেখল! ওহ তাই তো, ওদের অফিসের তিন তলায় যে আই টি কম্পানি টা আছে তারাই একটা ব্যতিক্রমী বিজ্ঞাপন দিয়েছে, সকলেই সেটা নিয়ে বলাবলি করছে। ও ও একটা প্যামফ্লেট নিয়ে এসেছে সকলের দেখাদেখি। ইতিমধ্যে মঞ্জুলা ঘরে এসে গেছে আলো নিয়ে, ইশ, আরেকটু আলো আঁধারিতে থাকলে ভালো হতো।
পরের দিন অফিসে কাজ করতে করতে শেখরের হঠাৎ মনে পড়ল প্যামফ্লেট টার কথা, ব্রিফকেস খুলে বের করে পড়তে লাগল। কাকতালীয়ভাবে ওই আই টি কম্পানিটির হেড অফিস সিঙ্গাপুরে আর এই কলকাতার অফিসে তারা একটা নতুন বিভাগ খুলছে যেখানে গৃহবধূদের কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ শিখিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া হবে বিশেষ করে সেই সমস্ত মহিলাদের যাঁরা অত্যন্ত মেধাবী কিন্তু পারিবারিক কারণ বশতঃ গৃহের বাইরে আর বেরোতে পারেননি। অফিসে খোঁজ নিয়ে জানল এই কম্পানির অধিকর্তার মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রজেক্ট টি , তিনি লাভের কথা না ভেবে কেবলমাত্র নারীদের উন্নতিকল্পেই এই কাজ টি শুরু করেছেন। শোনা যায় তাঁর মা নাকি বেথুন কলেজের স্নাতক হওয়া সত্ত্বেও স্বামী আর সংসারের কাজেই নিজেকে আটকে রেখেছিলেন, সেই জন্যই হয়তো মায়ের স্মৃতিতে পুত্রের এই প্রকল্প। শেখর মনে মনে স্থির করে নিল যে মঞ্জুলাকে এখানে ঢোকাতেই হবে, দরকার হলে ওই অফিসের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে অনুরোধ করবে। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারল এখানে ঢোকাটা খুব সহজ হবে না কারণ প্রত্যেককেই একটা প্রাথমিক পরীক্ষা দিতে হবে, সেখানে পাশ করলে একটা গ্রূপ ডিসকাশন এবং একদম শেষে মুখোমুখি ইন্টারভিউ। কিছুটা দমে গেলেও একেবারে হাল ছেড়ে দিলনা শেখর। সে দু দিন ধরে মঞ্জুলাকে বোঝাতে লাগল যেন প্রাথমিক পরীক্ষাটা সে দেয়। স্বামীর ছেলেমানুষিতে হেসে ফেলে মঞ্জুলা, আরে সে কবে পড়াশুনোর পাট চুকিয়ে দিয়েছে এখন কী তার অঙ্ক, ইংরেজি কিছু মনে আছে? তারপর আবার সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন থাকবে। শেখর বলল ঠিক আছে মনে করো ভিক্টোরিয়া বেড়াতে যাচ্ছ, পরীক্ষা টা দাও তারপর আমি তোমায় নিয়ে ঘুরব, অফিস ছুটি নেব। অগত্যা !
এরপর যা হলো তা অকল্পনীয়, অসম্ভব ভালো নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় পাশ করল মঞ্জুলা,পরীক্ষা দিতে দিতে বারবার বাবার কথাই মনে পড়ছিল আর চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিল তার। গ্রূপ ডিসকাশনে সে দুর্দান্ত ইংরেজি বলে সকলকে তাক লাগিয়ে দিল, মুম্বাইয়ের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশুনোর সুফল। তারপর তার ব্যক্তিত্ব, মার্জিত ব্যবহার, সুচিন্তিত মতামত ইন্টারভিউ বোর্ডের সকলকে চমকে দিল, সকলেই মুখ চাওয়া চাওয়ি করতে লাগলেন এই বিদুষী নারীর প্রতিভার ঝলক পেয়ে। এক সপ্তাহ পরে ফল প্রকাশ হতেই রাতে বাড়ি ফিরে শেখর সকলকে সুখবরটা দিল, মঞ্জুলার দিকে সকলেই অবাক বিস্ময়ে চেয়ে রইল। ওই অফিসে পরের মাস থেকেই তাদের ট্রেনিং শুরু হবে ছ মাসের জন্য প্রতিদিন দুপুর বারোটা থেকে বিকেল চারটে, সেই সঙ্গে তাদের কিছু স্টাইপেন্ড বাবদ কিছু টাকাও দেওয়া হবে। যারা খুব ভালো ফল করবে তাদের জন্য চাকরির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। বাড়ির কাজের ভার বড় বৌ আর ছোট মিলে সামলে দেবে বলল, এবার বিল্টুর ও ক্লাস ওয়ান, মর্নিং স্কুল থেকে ফিরে কাকিমা জেঠিমার কাছে চান খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমোবে, বিকেলে মা এসে পড়বে। দশটা নাগাদ ট্রেন ধরে মঞ্জুলা একাই পৌঁছে যায় আর ফেরে শেখরের সঙ্গে, শেখর ওর সময়টা এগিয়ে নিয়েছে যাতে দুজনে একসঙ্গে ফিরতে পারে। শেখর অবশ্য খুব বেশি কিছু আশা করে না, এই যে স্ত্রী বাড়ির চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে একটু নিঃশ্বাস নিতে পারছে এতেই খুশি সে। মঞ্জুলার মুখ চোখে আলোর ঝলকানি, শুধু এই আলোটুকু দেখবে বলেই এতদিন শেখর অপেক্ষা করেছিল।
দেখতে দেখতে ছ মাস কেটে গেল, দু রকমের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে মঞ্জুলা বিশেষ জ্ঞান অর্জন করে ফেলল এবং ছোটোখাটো প্রোগ্রাম লিখে সকলকে অবাক করে দিল। এরপর এলো এক অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব, কম্পানি তার কাজে খুশি হয়ে তাকে এবং আর দুজন মহিলাকে সিঙ্গাপুর অফিসে কাজের সুযোগ করে দিচ্ছে, প্রথম তিনমাস অবশ্য তাদের শিক্ষানবিশি তারপর পাকাপাকি ব্যবস্থা। এক ঝটকায় একটা জানলা খুলে গেল যেন, এই স্বপ্নই তো মঞ্জুলা দেখে এসেছে সেই নবম শ্রেণী থেকে, তবে কী এ কথা সত্যি যে সযত্নে লালিত স্বপ্ন একদিন পূরণ হয় ? কিন্তু এতটাও তো সহজ হবে না, বিল্টু কে ছেড়ে থাকা অসম্ভব তার পক্ষে। সোজা না ই বলে দিচ্ছিল সে কর্তৃপক্ষকে কিন্তু কি ভেবে যেন একবার শেখরকে জানাবে ঠিক করল। শেখর তো অফিস থেকে বেরিয়ে এই প্রস্তাব শুনে রাস্তাতেই তিড়িং বিড়িং করে লাফাতে শুরু করে দিল। মঞ্জুলার যাবতীয় দোলাচল এক ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তাকে রাজি করাল। তার যুক্তির কাছে হার মানল মঞ্জুলা| বিল্টু ইতিমধ্যে মা কে অনেকটা সময় না পাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে গেছে ফলে তিনটে মাস কোনো অসুবিধে হবে না। এরপর যদি মঞ্জুলা খুব মন দিয়ে কাজ করতে পারে তাহলে তাদের ভাগ্য ঘুরে যেতে পারে। মঞ্জুলার ওয়ার্ক পারমিট থাকলে সে স্বামী, সন্তানকে নিয়ে যেতে পারে এবং চেষ্টা চরিত্র করে শেখর এমন কোনো কাজ জোগাড় করতে পারে যারা তার ওয়ার্ক ভিসা করে দেবে, নইলে সিঙ্গাপুর তো কাছেই বছরে একবার মঞ্জুলা আসবে আর একবার শেখর যাবে। বুল্টু ওখানে মায়ের কাছে থেকেই পড়াশুনো করবে। এ সুযোগ সকলে পায় না অতএব সে যেন আর দোনামনা না করে।
বুল্টু সব শুনে বেজায় খুশি হয়ে গেল, বলল, ” মা তুমি খুব মন দিয়ে কাজ করো তারপর আমিও তোমার কাছে চলে যাবো। ওটাই তো রূপকথার দেশ!”
যে পাখিটা উড়তে উড়তে একদিন মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বাবা চলে যাওয়ায়, আজ তার পরম প্রিয় স্বামী স্বযত্নে সেই ভাঙা ডানা দুটোকে সারিয়ে শক্তিশালী করে তুলল, এবারের উড়ান বড়ো লম্বা।
সমাপ্ত
———————————————–
![]()
কল্যানী মিত্র ঘোষ পরিচিতি :
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতে বসে বাংলার জন্য মন কেমন থেকেই লেখালেখির শুরু ২০১৮ সাল থেকেই নিয়মিত। ভূগোল নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে ভারতে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে কাজ করার পর আমেরিকা তে স্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু ২০০৩ থেকে।

